১ গোলাপ হাসিয়া বলে, "আগে বৃষ্টি যাক চলে, দিক দেখা তরুণ তপন-- তখন ফুটাব এ যৌবন।' গেল মেঘ, এল উষা, আকাশের আঁখি হতে মুছে দিল বৃষ্টিবারিকণা-- সে তো রহিল না। কোকিল ভাবিছে মনে, "শীত যাবে কত ক্ষণে, গাছপালা ছাইবে মুকুলে-- তখন গাহিব মন খুলে।' কুয়াশা কাটিয়া যায়, বসন্ত হাসিয়া চায়, কানন কুসুমে ভরে গেল-- সে যে মরে গেল! ২ এত শীঘ্র ফুটিলি কেন রে! ফুটিলে পড়িতে হয় ঝরে-- মুকুলের দিন আছে তবু, ফোটা ফুল ফোটে না তো আর। বড়ো শীঘ্র গেলি মধুমাস, দু দিনেই ফুরালো নিশ্বাস। বসন্ত আবার আসে বটে, গেল যে সে ফেরে না আবার।
আমার বোঝা এতই করি ভারী-- তোমার ভার যে বইতে নাহি পারি। আমারি নাম সকল গায়ে লিখা, হয় নি পরা তব নামের টিকা-- তাই তো আমায় দ্বার ছাড়ে না দ্বারী। আমার ঘরে আমিই শুধু থাকি, তোমার ঘরে লও আমারে ডাকি। বাঁচিয়ে রাখি যা-কিছু মোরে আছে তার ভাবনায় প্রাণ তো নাহি বাঁচে-- সব যেন মোর তোমার কাছে হারি।