ধূমকেতু মাঝে মাঝে হাসির ঝাঁটায় দ্যুলোক ঝাঁটিয়ে নিয়ে কৌতুক পাঠায় বিস্মিত সূর্যের সভা ত্বরিতে পারায়ে-- পরিহাসচ্ছটা ফেলে সুদূরে হারায়ে, সৌর বিদূষক পায় ছুটি। আমার জীবনকক্ষে জানি না কী হেতু, মাঝে মাঝে এসে পড়ে খ্যাপা ধূমকেতু-- তুচ্ছ প্রলাপের পুচ্ছ শূন্যে দেয় মেলি, ক্ষণতরে কৌতুকের ছেলেখেলা খেলি নেড়ে দেয় গম্ভীরের ঝুঁটি। এ জগৎ মাঝে মাঝে কোন্ অবকাশে কখনো বা মৃদুস্মিত কভু উচ্চহাসে হেসে ওঠে, দেখা যায় আলোকে ঝলকে-- তারা কেহ ধ্রুব নয়, পলকে পলকে চিহ্ন তার নিয়ে যায় মুছে। তিমির-আসনে যবে ধ্যানমগ্ন রাতি উল্কাবরিষনকর্তা করে মাতামাতি-- দুই হাতে মুঠা মুঠা কৌতুকের কণা ছড়ায় হরির লুঠ, নাহি যায় গনা, প্রহর-কয়েক যায় ঘুচে। অনেক অদ্ভুত আছে এ বিশ্বসৃষ্টিতে, বিধাতার স্নেহ তাহে সহাস্য দৃষ্টিতে। তেমনি হালকা হাসি দেবতার দানে রয়েছে খচিত হয়ে আমার সম্মানে-- মূল্য তার মনে মনে জানি। এত বুড়ো কোনোকালে হব নাকো আমি হাসি-তামাশারে যবে কব ছ্যাব্লামি। এ নিয়ে প্রবীণ যদি করে রাগারাগি বিধাতার সাথে তারে করি ভাগাভাগি হাসিতে হাসিতে লব মানি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তোমারে দিব না দোষ। জানি মোর ভাগ্যের ভ্রূকুটি, ক্ষুদ্র এই সংসারের যত ক্ষত, যত তার ত্রুটি, যত ব্যথা আঘাত করিছে তব পরম সত্তারে অহরহ। জানি যে তুমি তো নাই ছাড়ায়ে আমারে নির্লিপ্ত সুদূর স্বর্গে। আমি মোর তোমাতে বিরাজে; দেওয়া-নেওয়া নিরন্তর প্রবাহিত তুমি-আমি-মাঝে দুর্গম বাধারে অতিক্রমি। আমার সকল ভার রাত্রিদিন রয়েছে তোমারি 'পরে, আমার সংসার সে শুধু আমারি নহে। তাই ভাবি এই ভার মোর যেন লঘু করি নিজবলে, জটিল বন্ধনডোর একে একে ছিন্ন করি যেন, মিলিয়া সহজ মিলে দ্বন্দ্বহীন বন্ধহীন বিচরণ করি এ নিখিলে না চেয়ে আপনা-পানে। অশান্তিরে করি দিলে দূর তোমাতে আমাতে মিলি ধ্বনিয়া উঠিবে এক সুর।