বৈকালবেলা ফসল-ফুরানো শূন্য খেতে বৈশাখে যবে কৃপণ ধরণী রয়েছে তেতে, ছেড়ে তার বন জানি নে কখন কী ভুল ভুলি শুষ্ক ধূলির ধূসর দৈন্যে এসেছিল বুল্বুলি। সকালবেলার স্মৃতিখানি মনে বহিয়া বুঝি তরুণ দিনের ভরা আতিথ্য বেড়ালো খুঁজি। অরুণে শ্যামলে উজ্জ্বল সেই পূর্ণতারে মিথ্যা ভাবিয়া ফিরে যাবে সে কি রাতের অন্ধকারে। তবুও তো গান করে গেল দান কিছু না পেয়ে। সংশয়-মাঝে কী শুনায়ে গেল কাহারে চেয়ে। যাহা গেছে সরে কোনো রূপ ধ'রে রয়েছে বাকি, এই সংবাদ বুঝি মনে মনে জানিতে পেরেছে পাখি। প্রভাতবেলার যে ঐশ্বর্য রাখে নি কণা, এসেছিল সে যে, হারায় না কভু সে সান্ত্বনা। সত্য যা পাই ক্ষণেকের তরে ক্ষণিক নহে। সকালের পাখি বিকালের গানে এ আনন্দই বহে।
এ ঘরে ফুরালো খেলা, এল দ্বার রুধিবার বেলা। বিলয়বিলীন দিনশেষে ফিরিয়া দাঁড়াও এসে যে ছিলে গোপনচর জীবনের অন্তরতর। ক্ষণিক মুহূর্ততরে চরম আলোকে দেখে নিই স্বপ্নভাঙা চোখে; চিনে নিই, এ লীলার শেষ পরিচয়ে কী তুমি ফেলিয়া গেলে, কী রাখিলে অন্তিম সঞ্চয়ে। কাছের দেখায় দেখা পূর্ণ হয় নাই, মনে-মনে ভাবি তাই-- বিচ্ছেদের দূরদিগন্তের ভূমিকায় পরিপূর্ণ দেখা দিবে অস্তরবিরশ্মির রেখায়। জানি না, বুঝিব কিনা প্রলয়ের সীমায় সীমায় শুভ্রে আর কালিমায় কেন এই আসা আর যাওয়া, কেন হারাবার লাগি এতখানি পাওয়া। জানি না, এ আজিকার মুছে-ফেলা ছবি আবার নূতন রঙে আঁকিবে কি তুমি, শিল্পীকবি।