ভৈরবী । রূপক কে এসে যায় ফিরে ফিরে আকুল নয়নের নীরে? কে বৃথা আশাভরে চাহিছে মুখ-'পরে? সে যে আমার জননী রে! কাহার সুধাময়ী বাণী মিলায় অনাদর মানি? কাহার ভাষা হায় ভুলিতে সবে চায়? সে যে আমার জননী রে! ক্ষণেক স্নেহকোল ছাড়ি চিনিতে আর নাহি পারি। আপন সন্তান করিছে অপমান-- সে যে আমার জননী রে! পুণ্য কুটিরে বিষণ্ণ কে ব'সে সাজাইয়া অন্ন? সে স্নেহ-উপহার রুচে না মুখে আর! সে যে আমার জননী রে!
আমার প্রাণের 'পরে চলে গেল কে বসন্তের বাতাসটুকুর মতো। সে যে ছুঁয়ে গেল নুয়ে গেল রে ফুল ফুটিয়ে গেল শত শত। সে চলে গেল, বলে গেল না, সে কোথায় গেল ফিরে এল না, সে যেতে যেতে চেয়ে গেল, কী যেন গেয়ে গেল তাই আপন মনে বসে আছি কুসুম-বনেতে। সে ঢেউয়ের মতো ভেসে গেছে, চঁদের আলোর দেশে গেছে, যেখান দিয়ে হেসে গেছে হাসি তার রেখে গেছে রে। মনে হল আঁখির কোণে আমায় যেন ডেকে গেছে সে। আমি কোথায় যাব কোথায় যাব, ভাবতেছি তাই একলা বসে। সে চাঁদের চোখে বুলিয়ে গেল ঘুমের ঘোর। সে প্রাণের কোথা দুলিয়ে গেল ফুলের ডোর। সে কুসুম-বনের উপর দিয়ে কী কথা যে বলে গেল, ফুলের গন্ধ পাগল হয়ে সঙ্গে তারি চলে গেল। হৃদয় আমার আকুল হল, নয়ন আমার মুদে এল, কোথা দিয়ে কোথায় গেল সে!