নাম তার চিনুলাল হরিরাম মোতিভয়, কিছুতে ঠকায় কেউ এই তার অতি ভয়। সাতানব্বই থেকে তেরোদিন ব'কে ব'কে বারোতে নামিয়ে এনে তবু ভাবে, গেল ঠকে। মনে মনে আঁক কষে, পদে পদে ক্ষতি-ভয়। কষ্টে কেরানি তার টিঁকে আছে কতিপয়।
আমি অতি পুরাতন, এ খাতা হালের হিসাব রাখিতে চাহে নূতন কালের। তবুও ভরসা পাই-- আছে কোনো গুণ, ভিতরে নবীন থাকে অমর ফাগুন। পুরাতন চাঁপাগাছে নূতনের আশা নবীন কুসুমে আনে অমৃতের ভাষা।
তব পূজা না আনিলে দণ্ড দিবে তারে, যমদূত লয়ে যাবে নরকের দ্বারে-- ভক্তিহীনে এই বলি যে দেখায় ভয় তোমার নিন্দুক সে যে, ভক্ত কভু নয়। হে বিশ্বভুবনরাজ, এ বিশ্বভুবনে আপনারে সব চেয়ে রেখেছ গোপনে আপন মহিমা-মাঝে। তোমার সৃষ্টির ক্ষুদ্র বালুকণাটুকু,ক্ষণিক শিশির তারাও তোমার চেয়ে প্রত্যক্ষ আকারে দিকে দিকে ঘোষণা করিছে আপনারে। যা-কিছু তোমারি তাই আপনার বলি চিরদিন এ সংসার চলিয়াছে ছলি-- তবু সে চোরের চৌর্য পড়ে না তো ধরা। আপনারে জানাইতে নাই তব ত্বরা।