নারীর দুখের দশা অপমানে জড়ানো এই দেখি দিকে দিকে ঘরে ঘরে ছড়ানো। জানো কি এ অন্যায় সমাজের হিসাবে নিমেষে নিমেষে কত হলাহল মিশাবে? পুরুষ জেনেছে এটা বিধিনির্দিষ্ট তাদের জীবন-ভোজে নারী উচ্ছিষ্ট। রোগ-তাপে সেবা পায়, লয় তাহা অলসে-- সুধা কেন ঢালে বিধি ছিদ্র এ কলসে! সমসম্মান হেথা নাহি মানে পুরুষে, নিজ প্রভুপদমদে তুলে রয় ভুরু সে। অর্ধেক কাপুরুষ অর্ধেক রমণী তাতেই তো নাড়ীছাড়া এ দেশের ধমণী। বুঝিতে পারে না ওরা-- এ বিধানে ক্ষতি কার। জানি না কী বিপ্লবে হবে এর প্রতিকার। একদা পুরুষ যদি পাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়ে নারীর পাশে নাহি নামে যুদ্ধে অর্ধেক-কালি-মাখা সমাজের বুকটা খাবে তবে বারে বারে শনির চাবুকটা। এত কথা বৃথা বলা--যে পেয়েছে ক্ষমতা নিঃসহায়ের প্রতি নাই তার মমতা, আপনার পৌরুষ করি দিয়া লাঞ্ছিত অবিচার করাটাই হয় তার বাঞ্ছিত।
কারে দূর নাহি কর। যত করি দান তোমারে হৃদয় মন, তত হয় স্থান সবারে লইতে প্রাণে। বিদ্বেষ যেখানে দ্বার হতে কারেও তাড়ায় অপমানে তুমি সেই সাথে যাও; যেথা অহংকার ঘৃণাভরে ক্ষুদ্রজনে রুদ্ধ করে দ্বার সেথা হতে ফির তুমি; ঈর্ষা চিত্তকোণে বসি বসি ছিদ্র করে তোমারি আসনে তপ্ত শূলে। তুমি থাক,যেথায় সবাই সহজে খুঁজিয়া পায় নিজ নিজ ঠাঁই। ক্ষুদ্র রাজা আসে যবে, ভৃত্য উচ্চরবে হাঁকি কহে, "সরে যাও, দূরে যাও সবে।' মহারাজ তুমি যবে এস, সেই সাথে নিখিল জগৎ আসে তোমারি পশ্চাতে।
ওই দেখা যায় তোমার বাড়ি চৌদিকে-মালঞ্চ-ঘেরা, অনেক ফুল তো ফোটে সেথায়, একটি ফুল সে সবার সেরা। নানা দেশের নানা পাখি করে হেথায় ডাকাডাকি, একটি সুর যে মর্মে বাজে যতই গাহুক বিহঙ্গেরা। যাতায়াতের পথের পাশে কেহ বা যায় কেহ আসে, বারেক যেজন বসে সেথায় তার কভু আর হয় না ফেরা! কেউ বা এসে চা করে পান, গ্রামোফোনে কেউ শোনে গান, অকারণে যারা আসে ধন্য যে সেই রসিকেরা॥