রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে পরাও যারে মণিরতন-হার-- খেলাধুলা আনন্দ তার সকলি যায় ঘুরে, বসন-ভুষণ হয় যে বিষম ভার। ছেঁড়ে পাছে আঘাত লাগি, পাছে ধুলায় হয় সে দাগি, আপনাকে তাই সরিয়ে রাখে সবার হতে দূরে, চলতে গেলে ভাবনা ধরে তার-- রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে, পরাও যারে মণিরতন-হার। কী হবে মা অমনতরো রাজার মতো সাজে, কী হবে ওই মণিরতন-হারে। দুয়ার খুলে দাও যদি তো ছুটি পথের মাঝে রৌদ্রবায়ু-ধুলাকাদার পাড়ে। যেথায় বিশ্বজনের মেলা সমস্ত দিন নানান খেলা, চারি দিকে বিরাট গাথা বাজে হাজার সুরে, সেথায় সে যে পায় না অধিকার, রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে, পরাও যারে মণিরতন-হার।
নিভৃত এ চিত্তমাঝে নিমেষে নিমেষে বাজে জগতের তরঙ্গ-আঘাত, ধ্বনিত হৃদয়ে তাই মুহূর্ত বিরাম নাই নিদ্রাহীন সারা দিন রাত। সুখ দুঃখ গীতস্বর ফুটিতেছে নিরন্তর-- ধ্বনি শুধু, সাথে নাই ভাষা। বিচিত্র সে কলরোলে ব্যাকুল করিয়া তোলে জাগাইয়া বিচিত্র দুরাশা। এ চিরজীবন তাই আর কিছু কাজ নাই রচি শুধু অসীমের সীমা। আশা দিয়ে, ভাষা দিয়ে, তাহে ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলি মানসী-প্রতিমা। বাহিরে পাঠায় বিশ্ব কত গন্ধ গান দৃশ্য সঙ্গীহারা সৌন্দর্যের বেশে, বিরহী সে ঘুরে ঘুরে ব্যথাভরা কত সুরে কাঁদে হৃদয়ের দ্বারে এসে। সেই মোহমন্ত্র-গানে কবির গভীর প্রাণে জেগে ওঠে বিরহী ভাবনা, ছাড়ি অন্তঃপুরবাসে সলজ্জ চরণে আসে মূর্তিমতী মর্মের কামনা। অন্তরে বাহিরে সেই ব্যাকুলিত মিলনেই কবির একান্ত সুখোচ্ছ্বাস। সেই আনন্দমুহূর্তগুলি তব করে দিনু তুলি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণের প্রকাশ।