শত শত লোক চলে শত শত পথে। তারি মাঝে কোথা কোন্ রথে সে আসিছে যার আজি নব অভ্যুদয়। দিক্লক্ষ্মী গাহিল না জয়; আজও রাজটিকা ললাটে হল না তার লিখা। নাই অস্ত্র, নাই সৈন্যদল, অস্ফুট তাহার বাণী, কণ্ঠে নাহি বল। সে কি নিজে জানে আসিছে সে কী লাগিয়া, আসে কোন্খানে! যুগের প্রচ্ছন্ন আশা করিছে রচনা তার অভ্যর্থনা কোন্ ভবিষ্যতে-- কোন্ অলক্ষিত পথে আসিতেছে অর্ঘ্যভার! আকাশে ধ্বনিছে বারম্বার-- "মুখ তোলো, আবরণ খোলো হে বিজয়ী, হে নির্ভীক, হে মহাপথিক-- তোমার চরণক্ষেপ পথে পথে দিকে দিকে মুক্তির সংকেতচিহ্ন যাক লিখে লিখে।'
তুমি যে চেয়ে আছ আকাশ ভ'রে নিশিদিন অনিমেষে দেখছ মোরে। আমি চোখ এই আলোকে মেলব যবে তোমার ওই চেয়ে-দেখা সফল হবে, এ আকাশ দিন গুনিছে তারি তরে। ফাগুনের কুসুম-ফোটা হবে ফাঁকি, আমার এই একটি কুঁড়ি রইলে বাকি। সেদিনে ধন্য হবে তারার মালা, তোমার এই লোকে লোকে প্রদীপ জ্বালা; আমার এই আঁধারটুকু ঘুচলে পরে।