যে গান গাহিয়াছিনু কবেকার দক্ষিণ বাতাসে সে গান আমার কাছে কেন আজ ফিরে ফিরে আসে শরতের অবসানে। সেদিনের সাহানার সুর আজি অসময়ে এসে অকারণে করিছে বিধুর মধ্যাহ্নের আকাশেরে; দিগন্তের অরণ্যরেখায় দূর অতীতের বাণী লিপ্ত আছে অস্পষ্ট লেখায়, তাহারে ফুটাতে চাহে। পথভ্রান্ত করুণ গুঞ্জনে মধু আহরিতে ফিরে, সেদিনের অকৃপণ বনে যে চামেলিবল্লী ছিল তারি শূন্য দানসত্র হতে। ছায়াতে যা লীন হল তারে খোঁজে নিষ্ঠুর আলোতে। শীতরিক্ত শাখা ছেড়ে পাখি গেছে সিন্ধুপারে চলি, তারি কুলায়ের কাছে সে কালের বিস্মৃত কাকলি বৃথাই জাগাতে আসে। যে তারকা অস্তে গেল দূরে তাহারি স্পন্দন ও-যে ধরিয়া এনেছে নিজ সুরে।
স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা, বোধে যার চিহ্ন পড়ে ভাষায় কুড়ায়ে তারে রাখা, কী অর্থ ইহার মনে ভাবি। এই দাবি জীবনের এ ছেলেমানুষি, মরণেরে বঞ্চিবার ভান ক'রে খুশি, বাঁচা-মরা খেলাটাতে জিতিবার শখ, তাই মন্ত্র প'ড়ে আনে কল্পনার বিচিত্র কুহক। কালস্রোতে বস্তুমূর্তি ভেঙে ভেঙে পড়ে, আপন দ্বিতীয় রূপ প্রাণ তাই ছায়া দিয়ে গড়ে। "রহিল" বলিয়া যায় অদৃশ্যের পানে; মৃত্যু যদি করে তার প্রতিবাদ, নাহি আসে কানে। আমি বদ্ধ ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের জালে, আমার আপন-রচা কল্পরূপ ব্যাপ্ত দেশে কালে, এ কথা বিলয়দিনে নিজে নাই জানি আর কেহ যদি জানে তাহারেই বাঁচা ব'লে মানি।