না গণি মনের ক্ষতি ধনের ক্ষতিতে হে বরেণ্য, এই বর দেহো মোর চিতে। যে ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ তোমার ভুবন এই তৃণভূমি হতে সুদূর গগন যে আলোকে, যে সংগীতে, যে সৌন্দর্যধনে, তার মূল্য নিত্য যেন থাকে মোর মনে স্বাধীন সবল শান্ত সরল সন্তোষ। অদৃষ্টেরে কভু যেন নাহি দিই দোষ কোনো দুঃখ কোনো ক্ষতি অভাবের তরে। বিস্বাদ না জন্মে যেন বিশ্বচরাচরে ক্ষুদ্র খন্ড হারাইয়া। ধনীর সমাজে না হয় না হোক স্থান, জগতের মাঝে আমার আসন যেন রহে সর্ব ঠাঁই, হে দেব, একান্তচিত্তে এই বর চাই।
আমার রাজার বাড়ি কোথায় কেউ জানে না সে তো; সে বাড়ি কি থাকত যদি লোকে জানতে পেত। রুপো দিয়ে দেয়াল গাঁথা, সোনা দিয়ে ছাত, থাকে থাকে সিঁড়ি ওঠে সাদা হাতির দাঁত। সাত মহলা কোঠায় সেথা থাকেন সুয়োরানী, সাত রাজার ধন মানিক-গাঁথা গলার মালাখানি। আমার রাজার বাড়ি কোথায় শোন্ মা, কানে কানে -- ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে সেইখানে। রাজকন্যা ঘুমোয় কোথা সাত সাগরের পারে, আমি ছাড়া আর কেহ তো পায় না খুঁজে তারে। দু হাতে তার কাঁকন দুটি, দুই কানে দুই দুল, খাটের থেকে মাটির 'পরে লুটিয়ে পড়ে চুল। ঘুম ভেঙে তার যাবে যখন সোনার কাঠি ছুঁয়ে হাসিতে তার মানিকগুলি পড়বে ঝ'রে ভুঁয়ে। রাজকন্যা ঘুমোয় কোথা শোন্ মা, কানে কানে -- ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে যেইখানে। তোমরা যখন ঘাটে চল স্নানের বেলা হলে আমি তখন চুপি চুপি যাই সে ছাদে চলে। পাঁচিল বেয়ে ছায়াখানি পড়ে মা, যেই কোণে সেইখানেতে পা ছড়িয়ে বসি আপন মনে। সঙ্গে শুধু নিয়ে আসি মিনি বেড়ালটাকে, সেও জানে নাপিত ভায়া কোন্খানেতে থাকে। জানিস নাপিতপাড়া কোথায়? শোন্ মা কানে কানে -- ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে যেইখানে।
যখন বীণায় মোর আনমনা সুরে গান বেঁধেছিনু বসি একা তখনো যে ছিলে তুমি দূরে, দাও নাই দেখা; কেমনে জানিব, সেই গান অপরিচয়ের তীরে তোমারেই করিছে সন্ধান। দেখিলাম, কাছে তুমি আসিলে যেমনি তোমারি গতির তালে বাজে মোর এ ছন্দের ধ্বনি; মনে হল, সুরের সে মিলে উচ্ছ্বসিল আনন্দের নিশ্বাস নিখিলে। বর্ষে বর্ষে পুষ্পবনে পুষ্পগুলি ফুটে আর ঝরে এ মিলের তরে। কবির সংগীতে বাণী অঞ্জলি পাতিয়া আছে জাগি অনাগত প্রসাদের লাগি। চলে লুকাচুরি খেলা বিশ্বে অনিবার অজানার সাথে অজানার।