বন্ধ হয়ে এল স্রোতের ধারা, শৈবালেতে আটক প'ল তরী। নৌকা-বাওয়া এবার করো সারা-- নাই রে হাওয়া, পাল নিয়ে কী করি। এখন তবে চলো নদীর তটে, গোধূলিতে আকাশ হল রাঙা। পশ্চিমেতে আঁকা আগুন-পটে বাব্লাবনে ওই দেখা যায় ডাঙা। ভেসো না আর, যেয়ো না আর ভেসে-- চলো এখন, যাবে যে দূরদেশে। এখন তোমায় তারার ক্ষীণালোকে চলতে হবে মাঠের পথে একা। গিরি কানন পড়বে কি আর চোখে, কুটিরগুলি যাবে কি আর দেখা। পিছন হতে দখিন-সমীরণে ফুলের গন্ধ আসবে আঁধার বেয়ে, অসময়ে হঠাৎ ক্ষণে ক্ষণে আবেশেতে দিবে হৃদয় ছেয়ে। চলো এবার, কোরো না আর দেরি-- মেঘের আভাস আকাশ-কোণে হেরি। হাটের সাথে ঘাটের সাথে আজি ব্যাবসা তোর বন্ধ হয়ে গেল। এখন ঘরে আয় রে ফিরে মাঝি, আঙিনাতে আসনখানি মেলো। ভুলে যা রে দিনের আনাগোনা, জ্বালতে হবে সারা রাতের আলো। শ্রান্ত ওরে, রেখে দে জাল-বোনা, গুটিয়ে ফেলো সকল মন্দ ভালো। ফিরিয়ে আনো ছড়িয়ে-পড়া মন-- সফল হোক সকল সমাপন।
স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা, বোধে যার চিহ্ন পড়ে ভাষায় কুড়ায়ে তারে রাখা, কী অর্থ ইহার মনে ভাবি। এই দাবি জীবনের এ ছেলেমানুষি, মরণেরে বঞ্চিবার ভান ক'রে খুশি, বাঁচা-মরা খেলাটাতে জিতিবার শখ, তাই মন্ত্র প'ড়ে আনে কল্পনার বিচিত্র কুহক। কালস্রোতে বস্তুমূর্তি ভেঙে ভেঙে পড়ে, আপন দ্বিতীয় রূপ প্রাণ তাই ছায়া দিয়ে গড়ে। "রহিল" বলিয়া যায় অদৃশ্যের পানে; মৃত্যু যদি করে তার প্রতিবাদ, নাহি আসে কানে। আমি বদ্ধ ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের জালে, আমার আপন-রচা কল্পরূপ ব্যাপ্ত দেশে কালে, এ কথা বিলয়দিনে নিজে নাই জানি আর কেহ যদি জানে তাহারেই বাঁচা ব'লে মানি।