খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে, কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে। দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা, সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা। পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ, নূতন নূতন কত গড়ে ইতিহাস, রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া উঠে সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে, সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা, উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা-- শুধু হেথা দুই তীরে, কেবা জানে নাম, দোঁহাপানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম। এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে, কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।
যাবার দিকের পথিকের 'পরে ক্ষণিকার স্নেহখানি শেষ উপহার করুণ অধরে দিল কানে কানে আনি। "ভুলিব না কভু, রবে মনে মনে' এই মিছে আশা দেয় খনে খনে, ছলছল ছায়া নবীন নয়নে বাধোবাধো মৃদু বাণী। যাবার দিকের পথিক সে কথা ভরি লয় তার প্রাণে। পিছনের এই শেষ আকুলতা পাথেয় বলি সে জানে। যখন আঁধারে ভরিবে সরণী, ভুলে-ভরা ঘুমে নীরব ধরণী, "ভুলিব না কভু,' এই ক্ষীণধ্বনি তখনো বাজিবে কানে। যাবার দিকের পথিক সে বোঝে-- যে যায় সে যায় চ'লে, যারা থাকে তারা এ উহারে খোঁজে, যে যায় তাহারে ভোলে। তবুও নিজেরে ছলিতে ছলিতে বাঁশি বাজে মনে চলিতে চলিতে "ভুলিব না কভু' বিভাসে ললিতে এই কথা বুকে দোলে।