তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। মিত্তিরদের কালু নিলু ভারি ঠাণ্ডা ক-ভাই! যতীশ ভালো, সতীশ ভালো, ন্যাড়া নবীন ভালো, তুমি বল ওরাই কেমন ঘর করে রয় আলো। মাখন বাবুর দুটি ছেলে দুষ্টু তো নয় কেউ-- গেটে তাদের কুকুর বাঁধা কর্তেছে ঘেউ ঘেউ। পাঁচকড়ি ঘোষ লক্ষ্মী ছেলে, দত্তপাড়ার গবাই, তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। তোমার কথা আমি যেন শুনি নে কক্খনোই, জামাকাপড় যেন আমার সাফ থাকে না কোনোই! খেলা করতে বেলা করি, বৃষ্টিতে যাই ভিজে, দুষ্টুপনা আরো আছে অমনি কত কী যে! বাবা আমার চেয়ে ভালো? সত্যি বলো তুমি, তোমার কাছে করেন নি কি একটুও দুষ্টুমি? যা বল সব শোনেন তিনি, কিচ্ছু ভোলেন নাকো? খেলা ছেড়ে আসেন চলে যেমনি তুমি ডাক?
স্বপ্ন যদি হ'ত জাগরণ, সত্য যদি হ'ত কল্পনা, তবে এ ভালোবাসা হ'ত না হত-আশা কেবল কবিতার জল্পনা। মেঘের খেলা-সম হ'ত সব মধুর মায়াময় ছায়াময়। কেবল আনাগোনা, নীরবে জানাশোনা, জগতে কিছু আর কিছু নয়। কেবল মেলামেশা গগনে, সুনীল সাগরের পরপারে সুদূরে ছায়াগিরি তাহারে ঘিরি ঘিরি শ্যামল ধরণীর ধারে ধারে। কখনো ধীরে ধীরে ভেসে যায়, কখনো মিশে যায় ভাঙিয়া-- কখনো ঘননীল বিজুলি-ঝিলিমিলি, কখনো উষারাগে রাঙিয়া। যেমন প্রাণপণ বাসনা তেমনি বাধা তার সুকঠিন সকলি লঘু হয়ে কোথায় যেত বয়ে, ছায়ার মতো হত কায়াহীন। চাঁদের আলো হত সুখহাস, অশ্রু শরতের বরষণ। সাক্ষী করি বিধু মিলন হত মৃদু কেবল প্রাণে প্রাণে পরশন। শান্তি পেত এই চিরতৃষা চিত্ত চঞ্চল সকাতর, প্রেমের থরে থরে বিরাম জাগিত রে-- দুখের ছায়া মাঝে রবিকর।