মা কি তুই পরের দ্বারে পাঠাবি তোর ঘরের ছেলে? তারা যে করে হেলা, মারে ঢেলা, ভিক্ষাঝুলি দেখতে পেলে ॥ করেছি মাথা নিচু, চলেছি যাহার পিছু যদি বা দেয় সে কিছু অবহেলে-- তবু কি এমনি করে ফিরব ওরে আপন মায়ের প্রসাদ ফেলে?। কিছু মোর নেই ক্ষমতা সে যে ঘোর মিথ্যে কথা, এখনো হয় নি মরণ শক্তিশেলে-- আমাদের আপন শক্তি আপন ভক্তি চরণে তোর দেব মেলে ॥ নেব গো মেগে-পেতে যা আছে তোর ঘরেতে, দে গো তোর আঁচল পেতে চিরকেলে-- আমাদের সেইখেনে মান, সেইখেনে প্রাণ, সেইখেনে দিই হৃদয় ঢেলে ॥
সকল ভয়ের ভয় যে তারে কোন্ বিপদে কাড়বে। প্রাণের সঙ্গে যে প্রাণ গাঁথা কোন্ কালে সে ছাড়বে। নাহয় গেল সবই ভেসে রইবে তো সেই সর্বনেশে, যে লাভ সকল ক্ষতির শেষে সে লাভ কেবল বাড়বে। সুখ নিয়ে, ভাই, ভয়ে থাকি, আছে আছে দেয় সে ফাঁকি, দুঃখে যে সুখ থাকে বাকি কেই বা সে সুখ নাড়বে? যে পড়েছে পড়ার শেষে ঠাঁই পেয়েছে তলায় এসে, ভয় মিটেছে বেঁচেছে সে-- তারে কে আর পাড়বে।
যেতে দাও যেতে দাও গেল যারা। তুমি যেয়ো না, তুমি যেয়ো না, আমার বাদলের গান হয় নি সারা ॥ কুটিরে কুটিরে বন্ধ দ্বার, নিভৃত রজনী অন্ধকার, বনের অঞ্চল কাঁপে চঞ্চল-- অধীর সমীর তন্দ্রাহারা ॥ দীপ নিবেছে নিবুক নাকো, আঁধারে তব পরশ রাখো। বাজুক কাঁকন তোমার হাতে আমার গানের তালের সাথে, যেমন নদীর ছলোছলো জলে ঝরে ঝরোঝরো শ্রাবণধারা ॥