যারা কথা দিয়ে তোমার কথা বলে তারা কথার বেড়া গাঁথে কেবল দলের পরে দলে ॥ একের কথা আরে বুঝতে নাহি পারে, বোঝায় যত কথার বোঝা ততই বেড়ে চলে ॥ যারা কথা ছেড়ে বাজায় শুধু সুর তাদের সবার সুরে সবাই মেলে নিকট হতে দূর। বোঝে কি নাই বোঝে থাকে না তার খোঁজে, বেদন তাদের ঠেকে গিয়ে তোমার চরণতলে ॥
সকলি ফুরাল, স্বপনপ্রায়, কোথা সে লুকাল, কোথা সে হায়! কুসুমকানন হয়েছে ম্লান, পাখীরা কেন রে গাহে না গান, ও! সব হেরি শূন্যময়, কোথা সে হায়! কাহার তরে আর ফুটিবে ফুল, মাধবী মালতী কেঁদে আকুল, সেই যে আসিত তুলিতে জল, সেই যে আসিত পাড়িতে ফল, ও! সে আর আসিবে না, কোথা সে হায়!
নিদ্রাহারা রাতের এ গান বাঁধব আমি কেমন সুরে। কোন্ রজনীগন্ধা হতে আনব সে তান কণ্ঠে পূরে॥ সুরের কাঙাল আমার ব্যথা ছায়ার কাঙাল রৌদ্র যথা সাঁজ-সকালে বনের পথে উদাস হয়ে বেড়ায় ঘুরে॥ ওগো, সে কোন্ বিহান বেলায় এই পথে কার পায়ের তলে নাম-না-জানা তৃণকুসুম শিউরেছিল শিশিরজলে। অলকে তার একটি গুছি করবীফুল রক্তরুচি, নয়ন করে কী ফুল চয়ন নীল গগনে দূরে দূরে॥