আমার কণ্ঠ হতে গান কে নিল ভুলায়ে, সে যে বাসা বাঁধে নীরব মনের কুলায়ে॥ মেঘের দিনে শ্রাবণ মাসে যূথীবনের দীর্ঘশ্বাসে আমার-প্রাণে সে দেয় পাখার ছায়া বুলায়ে॥ যখন শরৎ কাঁপে শিউলিফুলের হরষে নয়ন ভরে যে সেই গোপন গানের পরশে। গভীর রাতে কী সুর লাগায় আধো-ঘুমে আধো-জাগায়, আমার স্বপন-মাঝে দেয় যে কী দোল দুলায়ে॥
বিদায় করেছ যারে নয়ন-জলে, এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে গো॥ আজি মধু সমীরণে নিশীথে কুসুমবনে তারে কি পড়েছে মনে বকুলতলে॥ সে দিনও তো মধুনিশি প্রাণে গিয়েছিল মিশি, মুকুলিত দশ দিশি কুসুমদলে। দুটি সোহাগের বাণী যদি হত কানাকানি যদি ঐ মালাখানি পরাতে গলে। এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে গো মধুনিশি পূর্ণিমার ফিরে আসে বার বার, সে জন ফেরে না আর যে গেছে চলে ছিল তিথি অনকূল, শুধু নিমেষের ভুল-- চিরদিন তৃষাকুল পরান জ্বলে। এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে গো। ।