মোদের কিছু নাই রে নাই, আমরা ঘরে বাইরে গাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। যতই দিবস যায় রে যায় গাই রে সুখে হায় রে হায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। যারা সোনার চোরাবালির 'পরে পাকা ঘরের-ভিত্তি গড়ে তাদের সামনে মোরা গান গেয়ে যাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥ যখন থেকে থেকে গাঁঠের পানে গাঁঠকাটারা দৃষ্টি হানে তখন শূন্যঝুলি দেখায়ে গাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥ যখন দ্বারে আসে মরণবুড়ি মুখে তাহার বাজাই তুড়ি, তখন তান দিয়ে গান জুড়ি রে ভাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। এ যে বসন্তরাজ এসেছে আজ, বাইরে তাহার উজ্জ্বল সাজ, ওরে, অন্তরে তার বৈরাগী গায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। সে যে উৎসবদিন চুকিয়ে দিয়ে, ঝরিয়ে দিয়ে, শুকিয়ে দিয়ে, দুই রিক্ত হাতে তাল দিয়ে গায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥
কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়? জয় অজানার জয়। এই দিকে তোর ভরসা যত, ওই দিকে তোর ভয়! জয় অজানার জয় ॥ জানাশোনার বাসা বেঁধে কাটল তো দিন হেসে কেঁদে, এই কোণেতেই আনাগোনা নয় কিছুতেই নয়। জয় অজানার জয় ॥ মরণকে তুই পর করেছিস ভাই, জীবন যে তোর তুচ্ছ হল তাই। দু দিন দিয়ে ঘেরা ঘরে তাইতে যদি এতই ধরে, চিরদিনের আবাসখানা সেই কি শূন্যময়? জয় অজানার জয় ॥