এবার আমায় ডাকলে দূরে সাগর-পারের গোপন পুরে ॥ বোঝা আমার নামিয়েছি যে, সঙ্গে আমায় নাও গো নিজে, স্তব্ধ রাতের স্নিগ্ধ সুধা পান করাবে তৃষ্ণাতুরে ॥ আমার সন্ধ্যাফুলের মধু এবার যে ভোগ করবে বঁধু। তারার আলোর প্রদীপখানি প্রাণে আমার জ্বালবে আনি, আমার যত কথা ছিল ভেসে যাবে তোমার সুরে ॥
না গো, এই যে ধুলা আমার না এ। তোমার ধুলার ধরার 'পরে উড়িয়ে যাব সন্ধ্যাবায়ে॥ দিয়ে মাটি আগুন জ্বালি রচলে দেহ পূজার থালি-- শেষ আরতি সারা ক'রে ভেঙে যাব তোমার পায়ে॥ ফুল যা ছিল পূজার তরে যেতে পথে ডালি হতে অনেক যে তার গেছে পড়ে। কত প্রদীপ এই থালাতে সাজিয়েছিলে আপন হাতে-- কত যে তার নিবল হাওয়ায়, পৌঁছল না চরণছায়ে॥
যেতে যেতে চায় না যেতে, ফিরে ফিরে চায়-- সবাই মিলে পথে চলা হল আমার দায় ॥ দুয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকে-- দেয় না সাড়া হাজার ডাকে-- বাঁধন এদের সাধনধন, ছিঁড়তে যে ভয় পায় ॥ আবেশভরে ধুলায় প'ড়ে কতই করে ছল, যখন বেলা যাবে চলে ফেলবে আঁখিজল। নাই ভরসা, নাই যে সাহস, চিত্ত অবশ, চরণ অলস-- লতার মতো জড়িয়ে ধরে আপন বেদনায় ॥