কী করিলি মোহের ছলনে। গৃহ তেয়াগিয়া প্রবাসে ভ্রমিলি, পথ হারাইলি গহনে।। ওই সময় চলে গেল, আঁধার হয়ে এল, মেঘ ছাইল গগনে। শ্রান্ত দেহ আর চলিতে চাহে না, বিঁধিছে কন্টক চরণে।। গৃহে ফিরে যেতে প্রাণ কাঁদিছে, এখন ফিরিব কেমনে। ‘পথ বলে দাও’ ‘পথ বলে দাও’ কে জানে কারে ডাকি সঘনে।। বন্ধু যাহারা ছিল সকলে চলে গেল, কে আর রহিল এ বনে। ওরে, জগতসখা আছে যা রে তাঁর কাছে, বেলা যে যায় মিছে রোদনে।। দাঁড়ায়ে গৃহদ্বারে জননী ডাকিছে, আয় রে ধরি তাঁর চরণে। পথের ধূলি লেগে অন্ধ আঁখি মোর, মায়েরে দেখেও দেখিলি নে। কোথা গো কোথা তুমি জননী, কোথা তুমি, ডাকিছ কোথা হতে এ জনে। হাতে ধরিয়ে সাথে লয়ে চলো তোমার অমৃতভবনে।।
তুমি এবার আমায় লহো হে নাথ,লহো। এবার তুমি ফিরো না হে-- হৃদয় কেড়ে নিয়ে রহো। যে দিন গেছে তোমা বিনা তারে আর ফিরে চাহি না, যাক সে ধুলাতে। এখন তোমার আলোয় জীবন মেলে যেন জাগি অহরহ॥ কী আবেশে কিসের কথায় ফিরেছি হে যথায় তথায় পথে প্রান্তরে, এবার বুকের কাছে ও মুখ রেখে তোমার আপন বাণী কহো॥ কত কলুষ কত ফাঁকি এখনো যে আছে বাকি মনের গোপনে, আমায় তার লাগি আর ফিরায়ো না, তারে আগুন দিয়ে দহো।
ঘরে মুখ মলিন দেখে গলিস নে-- ওরে ভাই, বাইরে মুখ আঁধার দেখে টলিস নে-- ওরে ভাই ॥ যা তোমার আছে মনে সাধো তাই পরানপণে, শুধু তাই দশজনারে বলিস নে-- ওরে ভাই ॥ একই পথ আছে ওরে, চলো সেই রাস্তা ধরে, যে আসে তারই পিছে চলিস নে-- ওরে ভাই! থাক্-না আপন কাজে, যা খুশি বলুক-না যে, তা নিয়ে গায়ের জ্বালায় জ্বলিস নে-- ওরে ভাই ॥