বসন্ত তার গান লিখে যায় ধূলির 'পরে কী আদরে॥ তাই সে ধূলা ওঠে হেসে বারে বারে নবীন বেশে, বারে বারে রূপের সাজি আপনি ভরে কী আদরে॥ তেমনি পরশ লেগেছে মোর হৃদয়তলে, সে যে তাই ধন্য হল মন্ত্রবলে। তাই প্রাণে কোন্ মায়া জাগে, বারে বারে পুলক লাগে, বারে বারে গানের মুকুল আপনি ধরে কী আদরে॥
তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা, এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা। যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো, আকুল নয়নজলে ঢালো গো কিরণধারা ॥ তব মুখ সদা মনে জাগিতেছে সংগোপনে, তিলেক অন্তর হলে না হেরি কূল-কিনারা। কখনো বিপথে যদি ভ্রমিতে চাহে এ হৃদি অমনি ও মুখ হেরি শরমে সে হয় সারা।
সে যে মনের মানুষ, কেন তারে বসিয়ে রাখিস নয়নদ্বারে? ডাক্-না রে তোর বুকের ভিতর, নয়ন ভাসুক নয়নধারে ॥ যখন নিভবে আলো, আসবে রাতি, হৃদয়ে দিস আসন পাতি-- আসবে সে যে সঙ্গোপনে বিচ্ছেদেরই অন্ধকারে ॥ তার আসা-যাওয়ার গোপন পথে সে আসবে যাবে আপন মতে। তারে বাঁধবে ব'লে যেই করো পণ সে থাকে না, থাকে বাঁধন-- সেই বাঁধনে মনে মনে বাঁধিস কেবল আপনারে ॥