কেমনে শুধিব বলো তোমার এ ঋণ। এ দয়া তোমার, মনে রবে চিরদিন। যবে এ হৃদয়মাঝে ছিল না জীবন, মনে হ'ত ধরা যেন মরুর মতন, সে হৃদে ঢালিয়ে তব প্রেমবারিধার নূতন জীবন যেন করিলে সঞ্চার। একদিন এ হৃদয়ে বাজিত প্রেমের গান, কবিতায় কবিতায় পূর্ণ যেন ছিল প্রাণ-- দিনে দিনে সুখগান থেমে গেল এ হৃদয়ে, নিশীথশ্মশানসম আছিল নীরব হয়ে-- সহসা উঠেছে বাজি তব করপরশনে, পুরানো সকল ভাব জাগিয়া উঠেছে মনে, বিরাজিছে এ হৃদয়ে যেন নব-ঊষাকাল, শূন্য হৃদয়ের যত ঘুচেছে আঁধারজাল। কেমনে শুধিব বলো তোমার এ ঋণ। এ দয়া তোমার, মনে রবে চিরদিন॥
সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি, দুঃখে তোমায় পেয়েছি প্রাণ ভ’রে। হারিয়ে তোমায় গোপন রেখেছি, পেয়ে আবার হারাই মিলনঘোরে।। চিরজীবন আমার বীণা-তারে তোমার আঘাত লাগল বারে বারে, তাই তো আমার নানা সুরের তানে প্রাণে তোমার পরশ নিলেম ধ’রে।। আজ তো আমি ভয় করি নে আর লীলা যদি ফুরায় হেথাকার। নূতন আলোয় নূতন অন্ধকারে লও যদি বা নূতন সিন্ধুপারে তবু তুমি সেই তো আমার তুমি– আবার তোমায় চিনব নূতন ক’রে।।
আমার জীর্ণ পাতা যাবার বেলায় বারে বারে ডাক দিয়ে যায় নতুন পাতার দ্বারে দ্বারে। তাই তো আমার এই জীবনের বনচ্ছায়ে ফাগুন আসে ফিরে ফিরে দখিন বায়ে, নতুন সুরে গান উড়ে যায় আকাশ পারে, নতুন রঙে ফুল ফোটে তাই ভারে ভারে॥ ওগো আমার নিত্য নূতন দাঁড়াও হেসে চলব তোমার নিমন্ত্রণে নবীন বেশে। দিনের শেষে নিবল যখন পথের আলো, সাগরতীরে যাত্রা আমার যেই ফুরাল, তোমার বাঁশি বাজে সাঁঝের অন্ধকারে-- শূন্যে আমার উঠল তারা সারে সারে॥