তোরা বসে গাঁথিস মালা, তারা গলায় পরে। কখন যে শুকায়ে যায়, ফেলে দেয় রে অনাদরে॥ তোরা সুধা করিস দান, তারা শুধু করে পান, সুধায় অরুচি হলে ফিরেও তো নাহি চায় -- হৃদয়ের পাত্রখানি ভেঙে দিয়ে চলে যায়!! তোরা কেবল হাসি দিবি, তারা কেবল বসে আছে -- চোখের জল দেখিলে তারা আর তো রবে না কাছে। প্রাণের ব্যথা প্রাণে রেখে প্রাণের আগুন প্রাণে ঢেকে পরান ভেঙে মধু দিবি অশ্রুছাঁকা হাসি হেসে -- বুক ফেটে, কথা না বলে শুকায়ে পড়িবি শেষে॥
কে এসে যায় ফিরে ফিরে আকুল নয়ননীরে । কে বৃথা আশাভরে চাহিছে মুখ’পরে । সে যে আমার জননী রে ।। কাহার সুধাময়ী বাণী মিলায় অনাদর মানি ! কাহার ভাষা হায় ভুলিতে সবে চায় । সে যে আমার জননী রে ।। ক্ষণেক স্নেহ-কোল ছাড়ি চিনিতে আর নাহি পারি । আপন সন্তান করিছে অপমান— সে যে আমার জননী রে ।। পুণ্য কুটিরে বিষণ্ণ কে বসি সাজাইয়া অন্ন । সে স্নেহ-উপচার রুচে না মুখে আর । সে যে আমার জননী রে ।।