তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো কাছে আমায় শুধু ক্ষণেক তরে। আজি হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে আমি সাঙ্গ করব পরে। না চাহিলে তোমার মুখপানে হৃদয় আমার বিরাম নাহি জানে, কাজের মাঝে ঘুরে বেড়াই যত ফিরি কূলহারা সাগরে॥ বসন্ত আজ উচ্ছ্বাসে নিশ্বাসে এল আমার বাতায়নে। অলস ভ্রমর গুঞ্জরিয়া আসে ফেরে কুঞ্জের প্রাঙ্গণে। আজকে শুধু একান্তে আসীন চোখে চোখে চেয়ে থাকার দিন, আজকে জীবন-সমর্পণের গান গাব নীরব অবসরে॥
তুমি যে আমারে চাও আমি সে জানি। কেন যে মোরে কাঁদাও আমি সে জানি ॥ এ আলোকে এ আঁধারে কেন তুমি আপনারে ছায়াখানি দিয়ে ছাও আমি সে জানি ॥ সারাদিন নানা কাজে কেন তুমি নানা সাজে কত সুরে ডাক দাও আমি সে জানি। সারা হলে দে'য়া-নে'য়া দিনান্তের শেষ খেয়া কোন্ দিক-পানে বাও আমি সে জানি ॥
সে জন কে, সখী, বোঝা গেছে, আমাদের সখী যারে মনপ্রাণ সঁপেছে। ও সে কে, কে, কে। ওই যে তরুতলে, বিনোদ-মালা গলে, না জানি কোন্ ছলে বসে রয়েছে। সখী কী হবে, ও কি কাছে আসিবে কভু, কথা কবে। ও কি প্রেম জানে, ও কি বাঁধন মানে। ও কী মায়াগুণে মন লয়েছে। বিভল আঁখি তুলে আঁখি পানে চায়, যেন কী পথ ভুলে এল কোথায়। (ওগো) যেন কী গানের স্বরে, শ্রবণ আছে ভরে, যেন কোন্ চাঁদের আলোয় মগ্ন হয়েছে।