আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে তখন কে তুমি তা কে জানত। তখন ছিল না ভয়, ছিল না লাজ মনে, জীবন বহে যেত অশান্ত ॥ তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত যেন আমার আপন সখার মতো, হেসে তোমার সাথে ফিরেছিলেম ছুটে সে দিন কত-না বন-বনান্ত ॥ ওগো, সেদিন তুমি গাইতে যে-সব গান কোনো অর্থ তাহার কে জানত। শুধু সঙ্গে তারি গাইত আমার প্রাণ, সদা নাচত হৃদয় অশান্ত। হঠাৎ খেলার শেষে আজ কী দেখি ছবি-- স্তব্ধ আকাশ, নীরব শশী রবি, তোমার চরণ-পানে নয়ন করি নত ভুবন দাঁড়িয়ে আছে একান্ত ॥
জাগিতে হবে রে-- মোহনিদ্রা কভু না রবে চিরদিন, ত্যজিতে হইবে সুখশয়ন অশনিঘোষণে ॥ জাগে তাঁর ন্যায়দণ্ড সর্বভুবনে, ফিরে তাঁর কালচক্র অসীম গগনে, জ্বলে তাঁর রুদ্রনেত্র পাপতিমিরে ॥
মুখখানি কর মলিন বিধুর যাবার বেলা-- জানি আমি জানি, সে তব মধুর ছলের খেলা ॥ গোপন চিহ্ন এঁকে যাবে তব রথে-- জানি তুমি তারে ভুলিবে না কোনোমতে যার সাথে তব হল এক দিন মিলনমেলা ॥ জানি আমি যবে আঁখিজল ভরে রসের স্নানে মিলনের বীজ অঙ্কুর ধরে নবীন প্রাণে। খনে খনে এই চিরবিরহের ভান, খনে খনে এই ভয়রোমাঞ্চদান-- তোমার প্রণয়ে সত্য সোহাগে মিথ্যা হেলা ॥