এখনো তারে চোখে দেখি নি, শুধু বাঁশি শুনেছি-- মন প্রাণ যাহা ছিল দিয়ে ফেলেছি॥ শুনেছি মুরতি কালো তারে না দেখা ভালো। সখী, বলো আমি জল আনিতে যমুনায় যাব কি॥ শুধু স্বপনে এসেছিল সে, নয়নকোণে হেসেছিল সে। সে অবধি, সই, ভয়ে ভয়ে রই-- আঁখি মেলিতে ভেবে সারা হই। কাননপথে যে খুশি সে যায়, কদমতলে যে খুশি সে চায়-- সখী, বলো আমি আঁখি তুলে কারো পানে চাব কি॥
সংসারে তুমি রাখিলে মোরে যে ঘরে সেই ঘরে রব সকল দুঃখ ভুলিয়া। করুণা করিয়া নিশিদিন নিজ করে রাখিয়ো তাহার একটি দুয়ার খুলিয়া ॥ মোর সব কাজে মোর সব অবসরে সে দুয়ার রবে তোমারি প্রবেশ তরে, সেথা হতে বায়ু বহিবে হৃদয় 'পরে চরণ হইতে তব পদধূলি তুলিয়া ॥ যত আশ্রয় ভেঙে ভেঙে যায়, স্বামী, এক আশ্রয়ে রহে যেন চিত লাগিয়া। যে অনলতাপ যখনি সহিব আমি এক নাম বুকে বার বার দেয় দাগিয়া। যবে দুখদিনে শোকতাপ আসে প্রাণে তোমারি আদেশ বহিয়া যেন সে আনে, পরুষ বচন যতই আঘাত হানে সকল আঘাতে তব সুর উঠে জাগিয়া ॥
ক্ষমা করো মোরে সখী, শুধায়ো না আর— মরমে লুকানো থাক মরমের ভার ।। যে গোপন কথা, সখী, সতত লুকায়ে রাখি ইষ্টদেবমন্ত্রসম পূজি অনিবার । তাহা মানুষের কানে ঢালিতে যে লাগে প্রাণে— লুকানো থাক তা, সখী, হৃদয়ে আমার ।। ভালোবাসি, শুধায়ো না কারে ভালোবাসি । সে নাম কেমনে, সখী, কহিব প্রকাশি । আমি তুচ্ছ হতে তুচ্ছ— সে নাম যে অতি উচ্চ, সে নাম যে নহে যোগ্য এই রসনার ।। ক্ষুদ্র এই বনফুল পৃথিবীকাননে আকাশের তারকারে পূজে মনে মনে— দিন-দিন পূজা করি শুকায়ে পড়ে সে ঝরি, আজন্ম-নীরবে রহি যায় প্রাণ তার ।।