গীতাঞ্জলির কয়েকটি গানের ছন্দ সম্বন্ধে কৈফিয়ত চেয়েছ। গোড়াতেই বলে রাখা দরকার গীতাঞ্জলিতে এমন অনেক কবিতা আছে যার ছন্দোরক্ষার বরাত দেওয়া হয়েছে গানের সুরের 'পরে। অতএব, যে-পাঠকের ছন্দের কান আছে তিনি গানের খাতিরে এর মাত্রা কম-বেশি নিজেই দুরন্ত করে নিয়ে পড়তে পারেন, যাঁর নেই তাঁকে ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে। ১। "নব নব রূপে এসো প্রাণে'-- এই গানের অন্তিম পদগুলির কেবল অন্তিম দুটি অক্ষরের দীর্ঘহ্রস্ব স্বরের সম্মান স্বীকৃত হয়েছে। যথা "প্রাণে' "গানে' ইত্যাদি। একটিমাত্র পদে তার ব্যতিক্রম আছে। এসো দুঃখে সুখে, এসো মর্মে-- এখানে "সুখে'র এ-কারকে অবাঙালি রীতিতে দীর্ঘ করা হয়েছে। "সৌখ্যে' কথাটা দিলে বলবার কিছু থাকত না। তবু সেটাতে রাজি হই নি, মানুষ চাপা দেওয়ার চেয়ে মোটর ভাঙা ভালো। বৃষ্টি পড়ে- টাপুর টুপুর, নদেয় এল- বা- ন, শিবু ঠাকুরের বিয়ে- হবে- তিন কন্যে দা- ন। বৃষ্টি পড়ছে টাপুর টুপুর, নদেয় আসছে বন্যা, শিবু ঠাকুরের বিবাহ হচ্ছে, দান হবে তিন কন্যা। মা আমায় ঘুরাবি কত যেন। চোখবাঁধা বলদের মতো। হে মাতা আমারে ঘুরাবি কতই চক্ষুবদ্ধ বৃষের মতোই। মহাভারতের কথা অমৃতসমান, কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান্। নৃত্য। শুধু বি । লানো লা । বণ্য ছন্দ। নৃত্য শুধু লাবণ্যবিলানো ছন্দ সংগীতসুধা নন্দনে (র) সে আলিম্পনে। সংগী । ত সুধা । নন্দ । নের সে আ । লিম্পনে। সংগীতসুধা নন্দনেরি আলিম্পনে
গত জানুয়ারি মাসে "কন্টেম্পোরারি রিভিয়ু' পত্রে ডাক্তার ডিলন "ব্যাঘ্র চীন এবং মেষশাবক য়ুরোপ' নাম দিয়া একটি প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। তাহাতে যুদ্ধ-উপলক্ষে চীনবাসীদের প্রতি য়ুরোপের অকথ্য অত্যাচার বর্ণিত হইয়াছে। জঙ্গিস খাঁ, তৈমুর লং প্রভৃতি লোকশত্রুদিগের ইতিহাসবিখ্যাত নিদারুণ কীর্তি সভ্য য়ুরোপের উন্মত্ত বর্বরতার নিকট নতশির হইল। য়ুরোপ নিজের দয়াধর্মপ্রবণ গৌরব করিয়া এশিয়াকে সর্বদাই ধিক্কার দিয়া থাকে। তাহার জবাব দিবার উপলক্ষ পাইয়া আমাদের কোনো সুখ নাই। কারণ, অপবাদ রটনা করিয়া দুর্বল সবলের কোনো ক্ষতি করিতে পারে না। কিন্তু সবল দুর্বলের নামে যে অপবাদ ঘোষণা করে তাহা দুর্বলের পক্ষে কোনো-না কোনো সময়ে সাংঘাতিক হইয়া উঠে।
আমাদের দেশে লোকশিক্ষা দিবার যে দুটি সহজ উপায় অনেকদিন হইতে প্রচলিত আছে, তাহা যাত্রা এবং কথকতা। এ কথা স্বীকার করিতেই হইবে প্রকৃতির মধ্যে কোনো শিক্ষাকে বদ্ধমূল করিয়া দিবার পক্ষে এমন সুন্দর উপায় আর নাই। আজকাল শিক্ষার বিষয় বৈচিত্র্যলাভ করিয়াছে--একমাত্র পুরাণকথার ভিতর দিয়া সকল প্রকার উপদেশ চালানো যায় না। অথচ শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত দলের মধ্যে ভেদ যদি যথাসম্ভব লোপ করিয়া দেওয়াই শ্রেয় হয়, তবে যাহারা শিক্ষা হইতে বঞ্চিত তাহাদের মধ্যে এমন অনেক জ্ঞান প্রচার করা আবশ্যক যাহা লাভ করিবার উপায় তাহাদের নাই।