মেনেছি, হার মেনেছি। ঠেলতে গেছি তোমায় যত আমায় তত হেনেছি। আমার চিত্তগগন থেকে তোমায় কেউ যে রাখবে ঢেকে কোনোমতেই সইবে না সে বারেবারেই জেনেছি। অতীত জীবন ছায়ার মতো চলছে পিছে পিছে, কত মায়ার বাঁশির সুরে ডাকছে আমায় মিছে। মিল ছুটেছে তাহার সাথে, ধরা দিলেম তোমার হাতে, যা আছে মোর এই জীবনে তোমার দ্বারে এনেছি।
গতি আমার এসে ঠেকে যেথায় শেষে অশেষ সেথা খোলে আপন দ্বার। যেথা আমার গান হয় গো অবসান সেথা গানের নীরব পারাবার। যেথা আমার আঁখি আঁধারে যায় ঢাকি অলখ-লোকের আলোক সেথা জ্বলে। বাইরে কুসুম ফুটে ধুলায় পড়ে টুটে, অন্তরে তো অমৃত-ফল ফলে। কর্ম বৃহৎ হয়ে চলে যখন বয়ে তখন সে পায় বৃহৎ অবকাশ। যখন আমার আমি ফুরায়ে যায় থামি তখন আমার তোমাতে প্রকাশ।
আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান, দিয়ো তোমার জগৎসভায় এইটুকু মোর স্থান। আমি তোমার ভুবন-মাঝে লাগি নি নাথ, কোনো কাজে-- শুধু কেবল সুরে বাজে অকাজের এই প্রাণ। নিশায় নীরব দেবালয়ে তোমার আরাধন, তখন মোরে আদেশ কোরো গাইতে হে রাজন্। ভোরে যখন আকাশ জুড়ে বাজবে বীণা সোনার সুরে আমি যেন না রই দূরে এই দিয়ো মোর মান।