দিন সে প্রাচীন অতি প্রবীণ বিষয়ী তীক্ষ্ণদৃষ্টি, বস্তুরাজ্যজয়ী, দিকে দিকে প্রসারিয়া গনিছে সম্বল আপনার। নবীনা শ্যামলা সন্ধ্যা পরেছে জ্যোতির অলংকার চিরনববধূ, অন্তরে সলজ্জ মধু অদৃশ্য ফুলের কুঞ্জে রেখেছে নিভৃতে। অবগুণ্ঠনের অলক্ষিতে তার দূর পরিচয় শেষ নাহি হয়। দিনশেষে দেখা দেয় সে আমার বিদেশিনী-- তারে চিনি তবু নাহি চিনি।
দুই প্রাণ মিলাইয়া যে সংসার করিছ রচন তাহাতে সঞ্চিত হোক নিখিলের আশীর্বচন। ধ্রুবতারকার মতো তোমাদের প্রেমের মহিমা বিশ্বের সম্পদ হোক ছাড়ায়ে গৃহের ক্ষুদ্র সীমা।
"হায় গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কে বা ওগো তপন তোমার স্বপন দেখি যে,করিতে পারি নে সেবা।' শিশির কহিল কাঁদিয়া, "তোমারে রাখি যে বাঁধিয়া হে রবি,এমন নাহিকো আমার বল। তোমা বিনা তাই ক্ষুদ্র জীবন কেবলি অশ্রুজল।'
"আমি বিপুল কিরণে ভুবন করি যে আলো, তবু শিশিরটুকুরে ধরা দিতে পারি বাসিতে পারি যে ভালো।' শিশিরের বুকে আসিয়া কহিল তপন হাসিয়া, "ছোটো হয়ে আমি রহিব তোমারে ভরি, তোমার ক্ষুদ্র জীবন গড়িব হাসির মতন করি।'