হেলাফেলা সারাবেলা এ কী খেলা আপন-সনে! এই বাতাসে ফুলের বাসে মুখখানি কার পড়ে মনে! আঁখির কাছে বেড়ায় ভাসি কে জানে গো কাহার হাসি! দুটি ফোঁটা নয়নসলিল রেখে যায় এই নয়ন কোণে। কোন্ ছায়াতে কোন্ উদাসী দূরে বাজায় অলস বাঁশি, মনে হয় কার মনের বেদন কেঁদে বেড়ায় বাঁশির গানে। সারা দিন গাঁথি গান কারে চাহে, গাহে প্রাণ, তরুতলের ছায়ার মতন বসে আছি ফুলবনে।
অন্তরের সে সম্পদ ফেলেছি হারায়ে। তাই মোরা লজ্জানত; তাই সর্ব গায়ে ক্ষুধার্ত দুর্ভর দৈন্য করিছে দংশন; তাই আজি ব্রাহ্মণের বিরল বসন সম্মান বহে না আর; নাহি ধ্যানবল, শুধু জপমাত্র আছে; শুচিত্ব কেবল চিত্তহীন অর্থহীন অভ্যস্ত আচার। সন্তোষের অন্তরেতে বীর্য নাহি আর, কেবল জড়ত্বপুঞ্জ;ধর্ম প্রাণহীন ভারসম চেপে আছে আড়ষ্ট কঠিন। তাই আজি দলে দলে চাই ছুটিবারে পশ্চিমের পরিত্যক্ত বস্ত্র লুটিবারে লুকাতে প্রাচীন দৈন্য। বৃথা চেষ্টা ভাই, সব সজ্জা লজ্জা-ভরা চিত্ত যেথা নাই।