যেমন আছ তেমনি এসো, আর কোরো না সাজ। বেণী নাহয় এলিয়ে রবে, সিঁথে নাহয় বাঁকা হবে, নাই বা হল পত্রলেখায় সকল কারুকাজ। কাঁচল যদি শিথিল থাকে নাইকো তাহে লাজ। যেমন আছ তেমনি এসো, আর কোরো না সাজ। এসো দ্রুত চরণ দুটি তৃণের 'পরে ফেলে। ভয় কোরো না, অলক্তরাগ মোছে যদি মুছিয়া যাক-- নূপুর যদি খুলে পড়ে নাহয় রেখে এলে। খেদ কোরো না মালা হতে মুক্তা খ'সে গেলে। এসো দ্রুত চরণ দুটি তৃণের 'পরে ফেলে। হেরো গো, ওই আঁধার হল, আকাশ ঢাকে মেঘে। ও পার হতে দলে দলে বকের শ্রেণী উড়ে চলে, থেকে থেকে শূন্য মাঠে বাতাস ওঠে জেগে। ওই রে গ্রামের গোষ্ঠ-মুখে ধেনুরা ধায় বেগে। হেরো গো, ওই আঁধার হল, আকাশ ঢাকে মেঘে। প্রদীপখানি নিবে যাবে, মিথ্যা কেন জ্বাল? কে দেখতে পায় চোখের কাছে কাজল আছে কি না আছে? তরল তব সজল দিঠি মেঘের চেয়ে কালো। আঁখির পাতা যেমন আছে এমনি থাকা ভালো। কাজল দিতে প্রদীপখানি মিথ্যা কেন জ্বাল? এসো হেসে সহজ বেশে আর কোরো না সাজ। গাঁথা যদি না হয় মালা ক্ষতি তাহে নাই গো বালা, ভূষণ যদি না হয় সারা ভূষণে নাই কাজ। মেঘে মগন পূর্ব-গগন বেলা নাই রে আজ-- এসো হেসে সহজ বেশে, নাই বা হল সাজ।
এবারের মতো করো শেষ প্রাণে যদি পেয়ে থাকো চরমের পরম উদ্দেশ; যদি অবসান সুমধুর আপন বীণার তারে সকল বেসুর সুরে বেঁধে তুলে থাকে; অস্তরবি যদি তোরে ডাকে দিনেরে মাভৈঃ বলে যেমন সে ডেকে নিয়ে যায় অন্ধকার অজানায়; সুন্দরের শেষ অর্চনায় আপনার রশ্মিচ্ছটা সম্পূর্ণ করিয়া দেয় সারা; যদি সন্ধ্যাতারা অসীমের বাতায়নতলে শান্তির প্রদীপশিখা দেখায় কেমন করে জ্বলে; যদি রাত্রি তার খুলে দেয় নীরবের দ্বার, নিয়ে যায় নিঃশব্দ সংকেতে ধীরে ধীরে সকল বাণীর শেষ সাগরসংগম-তীর্থ-তীরে; সেই শতদল হতে যদি গন্ধ পেয়ে থাকো তার মানসসরসে যাহা শেষ অর্ঘ্য, শেষ নমস্কার।