আরোগ্যের পথে যখন পেলেম সদ্য প্রসন্ন প্রাণের নিমন্ত্রণ, দান সে করিল মোরে নূতন চোখের বিশ্ব-দেখা। প্রভাত-আলোয় মগ্ন ঐ নীলাকাশ পুরাতন তপস্বীর ধ্যানের আসন, কল্প-আরম্ভের অন্তহীন প্রথম মুহূর্তখানি প্রকাশ করিল মোর কাছে; বুঝিলাম, এই এক জন্ম মোর নব নব জন্মসূত্রে গাঁথা। সপ্তরশ্মি সূর্যালোকসম এক দৃশ্য বহিতেছে অদৃশ্য অনেক সৃষ্টিধারা।
যেদিন ফুটল কমল কিছুই জানি নাই আমি ছিলেম অন্যমনে। আমার সাজিয়ে সাজি তারে আনি নাই সে যে রইল সংগোপনে। মাঝে মাঝে হিয়া আকুলপ্রায়, স্বপন দেখে চমকে উঠে চায়, মন্দ মধুর গন্ধ আসে হায় কোথায় দখিন-সমীরণে। ওগো সেই সুগন্ধে ফিরায়ে উদাসিয়া আমায় দেশে দেশান্তে যেন সন্ধানে তার উঠে নিশ্বাসিয়া ভুবন নবীন বসন্তে। কে জানিত দূরে তো নেই সে, আমারি গো আমারি সেই যে, এ মাধুরী ফুটেছে হায় রে আমার হৃদয়-উপবনে।