প্রভাতে প্রভাতে পাই আলোকের প্রসন্ন পরশে অস্তিত্বের স্বর্গীয় সম্মান, জ্যোতিঃস্রোতে মিশে যায় রক্তের প্রবাহ, নীরবে ধ্বনিত হয় দেহে মনে জ্যোতিষ্কের বাণী। রহি আমি দু চক্ষুর অঞ্জলি পাতিয়া প্রতিদিন ঊর্ধ্ব-পানে চেয়ে। এ আলো দিয়েছে মোরে জন্মের প্রথম অভ্যর্থনা, অস্তসমুদ্রের তীরে এ আলোর দ্বারে রবে মোর জীবনের শেষ নিবেদন। মনে হয়, বৃথা বাক্য বলি, সব কথা বলা হয় নাই; আকাশবাণীর সাথে প্রাণের বাণীর সুর বাঁধা হয় নাই পূর্ণ সুরে, ভাষা পাই নাই।
আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই-- যাই আর ফিরে আসি, খুঁজিয়া না পাই। আমার ঘরেতে নাথ, এইটুকু স্থান-- সেথা হতে যা হারায় মেলে না সন্ধান। অনন্ত তোমার গৃহ, বিশ্বময় ধাম, হে নাথ, খুঁজিতে তারে সেথা আসিলাম। দাঁড়ালেম তব সন্ধ্যা-গগনের তলে, চাহিলাম তোমা-পানে নয়নের জলে। কোনো মুখ, কোনো সুখ, আশাতৃষা কোনো যেথা হতে হারাইতে পারে না কখনো, সেথায় এনেছি মোর পীড়িত এ হিয়া-- দাও তারে, দাও তারে, দাও ডুবাইয়া। ঘরে মোর নাহি আর যে অমৃতরস বিশ্ব-মাঝে পাই সেই হারানো পরশ।