আমি বিকাব না কিছুতে আর আপনারে। আমি দাঁড়াতে চাই সভার তলে সবার সাথে এক সারে। সকালবেলার আলোর মাঝে মলিন যেন না হই লাজে, আলো যেন পশিতে পায় মনের মধ্যে একবারে। বিকাব না, বিকাব না আপনারে। আমি বিশ্ব-সাথে রব সহজ বিশ্বাসে। আমি আকাশ হতে বাতাস নেব প্রাণের মধ্যে নিশ্বাসে। পেয়ে ধরার মাটির স্নেহ পুণ্য হবে সর্ব দেহ, গাছের শাখা উঠবে দুলে আমার মনের উল্লাসে। বিশ্বে রব সহজ সুখে বিশ্বাসে। আমি সবায় দেখে খুশি হব অন্তরে। কিছু বেসুর যেন বাজে না আর আমার বীণা-যন্তরে। যাহাই আছে নয়ন ভরি সবই যেন গ্রহণ করি, চিত্তে নামে আকাশ-গলা আনন্দিত মন্ত্র রে। সবায় দেখে তৃপ্ত রব অন্তরে।
তোমার ঘরের সিঁড়ি বেয়ে যতই আমি নাবছি। আমায় মনে আছে কি না ভয়ে ভয়ে ভাবছি। কথা পাড়তে গিয়ে দেখি, হাই তুললে দুটো; বললে উসুখুসু করে, "কোথায় গেল নুটো।" ডেকে তারে বলে দিলে, "ড্রাইভারকে বলিস, আজকে সন্ধ্যা নটার সময় যাব মেট্রোপলিস।" কুকুরছানার ল্যাজটা ধরে করলে নাড়াচাড়া; বললে আমায়, "ক্ষমা করো, যাবার আছে তাড়া।" তখন পষ্ট বোঝা গেল, নেই মনে আর নেই। আরেকটা দিন এসেছিল একটা শুভক্ষণেই-- মুখের পানে চাইতে তখন, চোখে রইত মিষ্টি; কুকুরছানার ল্যাজের দিকে পড়ত নাকো দৃষ্টি। সেই সেদিনের সহজ রঙটা কোথায় গেল ভাসি; লাগল নতুন দিনের ঠোঁটে রুজ-মাখানো হাসি। বটসুদ্ধ পা-দুখানা তুলে দিলে সোফায়; ঘাড় বেঁকিয়ে ঠেসেঠুসে ঘা লাগালে খোঁপায়। আজকে তুমি শুকনো ডাঙায় হালফ্যাশানের কূলে, ঘাটে নেমে চমকে উঠি এই কথাটাই ভুলে। এবার বিদায় নেওয়াই ভালো, সময় হল যাবার-- ভুলেছ যে ভুলব যখন আসব ফিরে আবার।