৫, ভাদ্র, ১৩৩৫


 

     ছায়া


আঁখি চাহে তব মুখ-পানে,

       তোমারে জেনেও নাহি জানে।

            কিসের নিবিড় ছায়া

            নিয়েছে স্বপনকায়া

       তোমার মর্মের মাঝখানে।

       হাসি কাঁপে অধরের শেষে

       দূরতর অশ্রুর আবেশে।বসন্তকূজিত রাতে

            তোমার বাণীর সাথে

       অশ্রুত কাহার বাণী মেশে।

       মনে তব গুপ্ত কোন্‌ নীড়ে

       অব্যক্ত ভাবনা এসে ভিড়ে।

            বসন্তপঞ্চম রাগে

            বিচ্ছেদের ব্যথা লাগে

       সুগভীর ভৈরবীর মিড়ে।

       তোমার শ্রাবণপূর্ণিমাতে

       বাদল রয়েছে সাথে সাথে।

            হে করুণ ইন্দ্রধনু,

            তোমার মানসী তনু

       জন্ম নিল আলোতে ছায়াতে।

       অদৃশ্যের বরণের ডালা,

       প্রচ্ছন্ন প্রদীপ তাহে জ্বালা।

            মিলন নিকুঞ্জতলে

            দিয়েছ আমার গলে

       বিরহের সূত্রে গাঁথা মালা।

       তব দানে ওগো আনমনা,

       দিয়ো মোরে তোমার বেদনা।

            যে বন কুয়াশাছাওয়া

            ঝরা ফুল সেথা পাওয়া,

       থাক্‌ তাহে শিশিরের কণা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •