নারদ কহিল আসি, হে ধরণী দেবী, তব নিন্দা করে নর তব অন্ন সেবি। বলে মাটি, বলে ধূলি, বলে জড় স্থুল, তোমারে মলিন বলে অকৃতজ্ঞকুল। বন্ধ করো অন্নজল, মুখ হোক চুন, ধুলামাটি কী জিনিস বাছারা বুঝুন। ধরণী কহিলা হাসি, বালাই, বালাই! ওরা কি আমার তুল্য, শোধ লব তাই? ওদের নিন্দায় মোর লাগিবে না দাগ, ওরা যে মরিবে যদি আমি করি রাগ।
মর্তবাসীদের তুমি যা দিয়েছ প্রভু, মর্তের সকল আশা মিটাইয়া তবু রিক্ত তাহা নাহি হয়। তার সর্বশেষ আপনি খুঁজিয়া ফিরে তোমারি উদ্দেশ। নদী ধায় নিত্যকাজে, সর্ব কর্ম সারি অন্তহীন ধারা তার চরণে তোমারি নিত্য জলাঞ্জলিরূপে ঝরে অনিবার। কুসুম আপন গন্ধে সমস্ত সংসার সম্পূর্ণ করিয়া তবু সম্পূর্ণ না হয়-- তোমারি পূজায় তার শেষ পরিচয়। সংসারে বঞ্চিত করি তব পূজা নহে। কবি আপনার গানে যত কথা কহে নানা জনে লহে তার নানা অর্থ টানি, তোমা-পানে ধায় তার শেষ অর্থখানি।
আমায় বাঁধবে যদি কাজের ডোরে কেন পাগল কর এমন ক'রে? বাতাস আনে কেন জানি কোন্ গগনের গোপন বাণী, পরানখানি দেয় যে ভ'রে। পাগল করে এমন ক'রে। সোনার আলো কেমনে হে, রক্তে নাচে সকল দেহে। কারে পাঠাও ক্ষণে ক্ষণে আমার খোলা বাতায়নে, সকল হৃদয় লয় যে হ'রে। পাগল করে এমন ক'রে।