উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথে ওই যে তিনি, ও ই যে বাহির পথে। আয় রে ছুটে, টানতে হবে রশি, ঘরের কোণে রইলি কোথায় বসি। ভিড়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে গিয়ে ঠাঁই করে তুই নে রে কোনোমতে। কোথায় কী তোর আছে ঘরের কাজ, সে-সব কথা ভুলতে হবে আজ। টান্ রে দিয়ে সকল চিত্তকায়া, টান্ রে ছেড়ে তুচ্ছ প্রাণের মায়া, চল্ রে টেনে আলোর অন্ধকারে নগর গ্রামে অরণ্যে পর্বতে। ওই যে চাকা ঘুরছে ঝনঝনি, বুকের মাঝে শুনছ কি সেই ধ্বনি। রক্তে তোমার দুলছে না কি প্রাণ। গাইছে না মন মরণজয়ী গান? আকাঙক্ষা তোর বন্যাবেগের মতো ছুটছে নাকি বিপুল ভবিষ্যতে।
১ প্রহরিষ্যন্ প্রিয়ং ব্রূয়াৎ প্রহৃত্যাপি প্রিয়োত্তরম্॥ অপি চাস্য শিরশ্ছিত্ত্বা রুদ্যাৎ শোচেৎ তথাপি চ॥ [১] --মহাভারত, আদিপর্ব ১৪০| ৫৬ ১ মারিতে মারিতে কহিবে মিষ্ট, মারিয়া কহিবে আরো। মাথাটা কাটিয়া কাঁদিয়া উঠিবে যতটা উচ্চে পারো॥ ২ সুখং বা যদি বা দুঃখং প্রিয়ং বা যদি বাপ্রিয়ম্। প্রাপ্তং প্রাপ্তমুপাসীত হৃদয়েনাপরাজিতঃ॥ --মহাভারত, শান্তিপর্ব ১৭৪|৩৯ ২ সুখ বা হোক দুখ বা হোক, প্রিয় বা অপ্রিয়, অপরাজিত হৃদয়ে সব বরণ করিয়া নিয়ো॥ পাঠান্তর সুখ হোক দুঃখ হোক, প্রিয় হোক অথবা অপ্রিয়, যা পাও অপরাজিত হৃদয়ে বহন করি নিয়ো॥ পাঠান্তর আসুক সুখ বা দুঃখ, প্রিয় বা অপ্রিয়, বিনা পরাজয়ে তারে বরণ করিয়ো॥ ৩ নাধর্মশ্চরিতো লোকে সদ্যঃ ফলতি গৌরিব। শনৈরাবর্তমানস্তু কর্তুর্মুলানি কৃন্ততি॥ যদি নাত্মনি পুত্রেষু ন চেৎ পুত্রেষু নপ্তৃষু। ন ত্বেব তু কৃতোহধর্মঃ কর্তুর্ভবতি নিষ্ফলঃ॥ অধর্মেণৈধতে তাবৎ ততো ভদ্রাণি পশ্যতি। ততঃ সপত্নাঞ্জয়তি সমূলস্তু বিনশ্যতি॥ --মনুসংহিতা, ৪|১৭২-৭৪ ৩ গাভী দুহিলেই দুগ্ধ পাই তো সদ্যই, কিন্তু অধর্মের ফল মেলে না অদ্যই। জানি তার আবর্তন অতি ধীরে ধীরে সমূলে ছেদন করে অধর্মকারীরে॥ আপনিও ফল তার নাহি পায় যদি, পুত্র বা পৌত্রেও তাহা ফলে নিরবধি। এ কথা নিশ্চিত জেনো অধর্ম যে করে নিষ্ফল হয় না কভু কালে কালান্তরে॥ আপাতত বাড়ে লোক অধর্মের দ্বারা, অধর্মেই আপনার ভালো দেখে তারা। এ পথেই শত্রুদের পরাজয়২করে, শেষে কিন্তু একদিন সমূলেই মরে॥ ৩ টীকা : ১ সুভাষিতরত্নভাণ্ডাগার-ধৃত পাঠ। মহাভারতের প্রচলিত পাঠ-- প্রহরিষ্যন্ প্রিয়ং ব্রূয়াৎ প্রহরন্নপি ভারত। প্রহৃত্য চ কৃপায়িত শোচেত চ রুদেত চ॥ ২ পাঠান্তর : পরাস্ত ৩ শেষ ছত্র-দুটির পাঠান্তর-- অধর্মেই শত্রুদের করে পরাজয় শেষে কিন্তু সমূলে বিনাশপ্রাপ্ত হয়।