আমার কীর্তিরে আমি করি না বিশ্বাস। জানি, কালসিন্ধু তারে নিয়ত তরঙ্গঘাতে দিনে দিনে দিবে লুপ্ত করি। আমার বিশ্বাস আপনারে। দুই বেলা সেই পাত্র ভরি এ বিশ্বের নিত্যসুধা করিয়াছি পান। প্রতি মুহূর্তের ভালোবাসা তার মাঝে হয়েছে সঞ্চিত। দুঃখভারে দীর্ণ করে নাই, কালো করে নাই ধূলি শিল্পেরে তাহার। আমি জানি, যাব যবে সংসারের রঙ্গভূমি ছাড়ি, সাক্ষ্য দেবে পুষ্পবন ঋতুতে ঋতুতে এ বিশ্বেরে ভালোবাসিয়াছি। এ ভালোবাসাই সত্য, এ জন্মের দান। বিদায় নেবার কালে এ সত্য অম্লান হয়ে মৃত্যুরে করিবে অস্বীকার।
শেষের মধ্যে অশেষ আছে, এই কথাটি মনে আজকে আমার গানের শেষে জাগছে ক্ষণে ক্ষণে। সুর গিয়েছে থেমে তবু থামতে যেন চায় না কভু, নীরবতায় বাজছে বীণা বিনা প্রয়োজনে। তারে যখন আঘাত লাগে, বাজে যখন সুরে-- সবার চেয়ে বড়ো যে গান সে রয় বহুদূরে। সকল আলাপ গেলে থেমে শান্ত বীণায় আসে নেমে, সন্ধ্যা যেমন দিনের শেষে বাজে গভীর স্বনে।