তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি, ওই যে আসে, আসে, আসে। যুগে যুগে পলে পলে দিনরজনী সে যে আসে, আসে, আসে। গেয়েছি গান যখন যত আপন-মনে খ্যাপার মতো সকল সুরে বেজেছে তার আগমনী- সে যে আসে, আসে, আসে। কত কালের ফাগুন-দিনে বনের পথে সে যে আসে, আসে, আসে। কত শ্রাবণ অন্ধকারে মেঘের রথে সে যে আসে, আসে, আসে। দুখের পরে পরম দুখে, তারি চরণ বাজে বুকে, সুখে কখন্ বুলিয়ে সে দেয় পরশমণি। সে যে আসে, আসে, আসে।
পূর্ণ করি নারী তার জীবনের থালি প্রিয়ের চরণে প্রেম নিঃশেষিয়া দিতে গেল ঢালি, ব্যর্থ হল পথ-খোঁজা-- কহিল, "হে ভগবান, নিষ্ঠুর যে এ অর্ঘ্যের বোঝা; আমার দিবস রাত্রি অসহ্য পেষণে একান্ত পীড়িত আর্ত; তাই সান্ত্বনার অন্বেষণে এসেছি তোমার দ্বারে--এ প্রেম তুমিই লও প্রভু!' "লও লও' বারবার ডেকে বলে, তবু দিতে পারে না যে তাকে কৃপণের ধন-সম শিরা আঁকড়িয়া থাকে। যেমন তুষাররাশি গিরিশিরে লগ্ন রহে, কিছুতে স্রোত না বহে, আপন নিষ্ফল কঠিনতা দেয় তারে ব্যথা, তেমনি সে নারী নিশ্চল-হৃদয়ভারে-ভারী কেঁদে বলে, "কী ধনে আমার প্রেম দামি সে যদি না বুঝেছিল, তুমি অন্তর্যামী, তুমিও কি এরে চিনিবে না? মানবজন্মের সব দেনা শোধ করি লও, প্রভু, আমার সর্বস্ব রত্ন নিয়ে। তুমি যে প্রেমের লোভী মিথ্যা কথা কি এ!' "লও লও' যত বলে খোলে না যে তার হৃদয়ের দ্বার। সারাদিন মন্দিরা বাজায়ে করে গান, "লও তুমি লও ভগবান!'