বৈকালবেলা ফসল-ফুরানো শূন্য খেতে বৈশাখে যবে কৃপণ ধরণী রয়েছে তেতে, ছেড়ে তার বন জানি নে কখন কী ভুল ভুলি শুষ্ক ধূলির ধূসর দৈন্যে এসেছিল বুল্বুলি। সকালবেলার স্মৃতিখানি মনে বহিয়া বুঝি তরুণ দিনের ভরা আতিথ্য বেড়ালো খুঁজি। অরুণে শ্যামলে উজ্জ্বল সেই পূর্ণতারে মিথ্যা ভাবিয়া ফিরে যাবে সে কি রাতের অন্ধকারে। তবুও তো গান করে গেল দান কিছু না পেয়ে। সংশয়-মাঝে কী শুনায়ে গেল কাহারে চেয়ে। যাহা গেছে সরে কোনো রূপ ধ'রে রয়েছে বাকি, এই সংবাদ বুঝি মনে মনে জানিতে পেরেছে পাখি। প্রভাতবেলার যে ঐশ্বর্য রাখে নি কণা, এসেছিল সে যে, হারায় না কভু সে সান্ত্বনা। সত্য যা পাই ক্ষণেকের তরে ক্ষণিক নহে। সকালের পাখি বিকালের গানে এ আনন্দই বহে।
শ্রীযুক্ত নন্দলাল বসুর পাহাড়-আঁকা চিত্রপত্রিকার উত্তরে শুক বলে, গিরিরাজের জগতে প্রাধান্য; সারী বলে, মেঘমালা, সেই বা কী সামান্য,-- গিরির মাথায় থাকে। শুক বলে, গিরিরাজের দৃঢ় অচল শিলা; সারী বলে, মেঘমালার আদি-অন্তই লীলা,-- বাঁধবে কে-বা তাকে। শুক বলে, নদীর জলে গিরি ঢালেন প্রাণ; সারী বলে, তার পিছনে মেঘমালার দান,-- তাই তো নদী আছে। শুক বলে, গিরীশ থাকেন গিরিতে দিনরাত্র; সারী বলে, অন্নপূর্ণা ভরেন ভিক্ষাপাত্র ,-- সে তো মেঘের কাছে।
শুক বলে, হিমাদ্রি যে ভারত করে ধন্য; সারী বলে, মেঘমালা বিশ্বেরে দেয় স্তন্য ,-- বাঁচে সকল জন। শুক বলে, সমাধিতে স্তব্ধ গিরির দৃষ্টি; সারী বলে, মেঘমালার নিত্যনূতন সৃষ্টি,-- তাই সে চিরন্তন।