আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো। তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর, কেহ নাই কিছু নাই গো। তুমি সুখ যদি নাহি পাও, যাও, সুখের সন্ধানে যাও, আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে, আর কিছু নাহি চাই গো। আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস, দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ মাস। যদি আর কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস, তবে, তুমি যাহা চাও, তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো।
সেই অভয় ব্রহ্মনাম আজি মোরা সবে লইলাম-- যিনি সকল ভয়ের ভয়। মোরা করিব না শোক যা হবার হোক, চলিব ব্রহ্মধাম। জয় জয় ব্রহ্মের জয়। যদি দুঃখে দহিতে হয় তবু নাহি ভয়, নাহি ভয়। যদি দৈন্য বহিতে হয় তবু নাহি ভয়, নাহি ভয়। যদি মৃত্যু নিকট হয় তবু নাহি ভয়, নাহি ভয়। জয় জয় ব্রহ্মের জয়॥
অয়ি বিষাদিনী বীণা, আয় সখী, গা লো সেই-সব পুরানো গান— বহুদিনকার লুকানো স্বপনে ভরিয়া দে-না লো আঁধার প্রাণ ।। হা রে হতবিধি, মনে পড়ে তোর সেই একদিন ছিল আমি আর্যলক্ষ্মী এই হিমালয়ে এই বিনোদিনী বীণা করে লয়ে যে গান গেয়েছি সে গান শুনিয়া জগত চমকি উঠিয়াছিল ।। আমি অর্জুনেরে— আমি যুধিষ্ঠিরে করিয়াছি স্তনদান । এই কোলে বসি বাল্মীকি করেছে পুণ্য রামায়ণ গান । আজ অভাগিনী— আজ অনাথিনী ভয়ে ভয়ে ভয়ে লুকায়ে লুকায়ে নীরবে নীরবে কাঁদি, পাছে জননীর রোদন শুনিয়া একটি সন্তান উঠে রে জাগিয়া ! কাঁদিতেও কেহ দেয় না বিধি ।। হায় রে বিধাতা, জানেনা তাহারা সে দিন গিয়াছে চলি যে দিন মুছিতে বিন্দু-অশ্রুধার কত-না করিত সন্তান আমার— কত-না শোণিত দিত রে ঢালি ।।