আজি সাঁঝের যমুনায় গো তরুণ চাঁদের কিরণতরী কোথায় ভেসে যায় গো ॥ তারি সুদূর সারিগানে বিদায়স্মৃতি জাগায় প্রাণে সেই-যে দুটি উতল আঁখি উছল করুণায় গো ॥ আজ মনে মোর যে সুর বাজে কেউ তা শোনে না কি। একলা প্রাণের কথা নিয়ে একলা এ দিন যায় কি। যায় যাবে, সে ফিরে ফিরে লুকিয়ে তুলে নেয় নি কি রে আমার পরম বেদনখানি আপন বেদনায় গো ॥
আমার গোধূলিলগন এল বুঝি কাছে গোধূলিলগন রে। বিবাহের রঙে রাঙা হয়ে আসে সোনার গগন রে। শেষ ক'রে দিল পাখি গান গাওয়া, নদীর উপরে পড়ে এল হাওয়া; ও পারের তীর, ভাঙা মন্দির আঁধারে মগন রে। আসিছে মধুর ঝিল্লিনূপুরে গোধূলিলগন রে ॥ আমার দিন কেটে গেছে কখনো খেলায়, কখনো কত কী কাজে। এখন কী শুনি পুরবীর সুরে কোন্ দূরে বাঁশি বাজে। বুঝি দেরি নাই, আসে বুঝি আসে, আলোকের আভা লেগেছে আকাশে-- বেলাশেষে মোরে কে সাজাবে, ওরে, নবমিলনের সাজে! সারা হল কাজ, মিছে কেন আজ ডাক মোরে আর কাজে ॥ আমি জানি যে আমার হয়ে গেছে গণা গোধূলিলগন রে। ধূসর আলোকে মুদিবে নয়ন অস্তগগন রে। তখন এ ঘরে কে খুলিবে দ্বার, কে লইবে টানি বাহুটি আমার, আমায় কে জানে কী মন্ত্রে গানে করিবে মগন রে-- সব গান সেরে আসিবে যখন গোধূলিলগন রে ॥