আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে॥ আছে সে নয়নতারায় আলোকধারায়, তাই না হারায়-- ওগো তাই দেখি তায় যেথায় সেথায় তাকাই আমি যে দিক-পানে॥ আমি তার মুখের কথা শুনব ব'লে গেলাম কোথা, শোনা হল না, হল না-- আজ ফিরে এসে নিজের দেশে এই-যে শুনি শুনি তাহার বাণী আপন গানে॥ কে তোরা খুঁজিস তারে কাঙাল-বেশে দ্বারে দ্বারে, দেখা মেলে না মেলে না,-- ও তোরা আয় রে ধেয়ে দেখ্ রে চেয়ে আমার বুকে -- ওরে দেখ্ রে আমার দুই নয়ানে॥
দুঃখ যে তোর নয় রে চিরন্তন-- পার আছে রে এই সাগরের বিপুল ক্রন্দন ॥ এই জীবনের ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত, চিরপ্রাণের আলয়-মাঝে অনন্ত সান্ত্বন ॥ মরণ যে তোর নয় রে চিরন্তন-- দুয়ার তাহার পেরিয়ে যাবি, ছিঁড়বে রে বন্ধন। এ বেলা তোর যদি ঝড়ে পূজার কুসুম ঝ'রে পড়ে, যাবার বেলায় ভরবে থালায় মালা ও চন্দন ॥
জীবন যখন ছিল ফুলের মতো পাপড়ি তাহার ছিল শত শত ॥ বসন্তে সে হ'ত যখন দাতা ঝরিয়ে দিত দু-চারটি তার পাতা, তবুও যে তার বাকি রইত কত ॥ আজ বুঝি তার ফল ধরেছে, তাই হাতে তাহার অধিক কিছু নাই। হেমন্তে তার সময় হল এবে পূর্ণ করে আপনাকে সে দেবে, রসের ভারে তাই সে অবনত ॥