আমি যখন তাঁর দুয়ারে ভিক্ষা নিতে যাই তখন যাহা পাই সে যে আমি হারাই বারে বারে ॥ তিনি যখন ভিক্ষা নিতে আসেন আমার দ্বারে বন্ধ তালা ভেঙে দেখি আপন-মাঝে গোপন রতনভার, হারায় না সে আর ॥ প্রভাত আসে তাঁহার কাছে আলোক ভিক্ষা নিতে, সে আলো তার লুটায় ধরণীতে। তিনি যখন সন্ধ্যা-কাছে দাঁড়ান ঊর্ধ্বকরে, তখন স্তরে স্তরে ফুটে ওঠে অন্ধকারের আপন প্রাণের ধন-- মুকুটে তাঁর পরেন সে রতন ॥
কে গো অন্তরতর সে আমার চেতনা আমার বেদনা তারি সুগভীর পরশে॥ আঁখিতে আমার বুলায় মন্ত্র, বাজায় হৃদয়বীণার তন্ত্র, কত আনন্দে জাগায় ছন্দ কত সুখে দুখে হরষে॥ সোনালি রুপালি সবুজে সুনীলে সে এমন মায়া কেমনে গাঁথিলে-- তারি সে আড়ালে চরণ বাড়ালে, ডুবালে সে সুধাসরসে। কত দিন আসে কত যুগ যায়, গোপনে গোপনে পরান ভুলায়, নানা পরিচয়ে নানা নাম ল'য়ে নিতি নিতি রস বরষে॥