ওগো আমার চির-অচেনা পরদেশী, ক্ষণতরে এসেছিলে নির্জন নিকুঞ্জ হতে কিসের আহ্বানে॥ যে কথা বলেছিলে ভাষা বুঝি নাই তার, আভাস তারি হৃদয়ে বাজিছে সদা যেন কাহার বাঁশির মনোমোহন সুরে॥ প্রভাতে একা বসে গেঁথেছিনু মালা, ছিল পড়ে তৃণতলে অশোকবনে। দিনশেষে ফিরে এসে পাই নি তারে, তুমিও কোথা গেছ চলে-- বেলা গেল, হল না আর দেখা ॥
ওগো ভাগ্যদেবী পিতামহী, মিটল আমার আশ-- এখন তবে আজ্ঞা করো, বিদায় হবে দাস। জীবনের এই বাসরবাতি পোহায় বুঝি, নেবে বাতি-- বধূর দেখা নাইকো, শুধু প্রচুর পরিহাস। এখন থেমে গেল বাঁশি, শুকিয়ে এল পুষ্পরাশি, উঠল তোমার অট্টহাসি কাঁপায়ে আকাশ। ছিলেন যাঁরা আমায় ঘিরে গেছেন যে যার ঘরে ফিরে, আছ বৃদ্ধা ঠাকুরানী মুখে টানি বাস॥