ওরে ভাই, মিথ্যা ভেবো না । হবার নয় যা কোনোমতেই হবেই না সে, হতে দেব না ।। পড়ব না রে ধুলায় লুটে, যাবে না রে বাঁধন টুটে— যেতে দেব না । মাথা যাতে নত হবে এমন বোঝা মাথায় নেব না ।। দুঃখ আছে, দুঃখ পেতেই হবে— যত দূরে যাবার আছে সে তো যেতেই হবে । উপর-পানে চেয়ে ওরে ব্যথা নে রে বক্ষে ধ’রে— নে রে সকলে । নি:সহায়ের সহায় যিনি বাজবে তাঁরে তোদের বেদনা ।।
সোনার পিঞ্জর ভাঙিয়ে আমার প্রাণের পাখিটি উড়িয়ে যাক। সে যে হেথা গান গাহে না! সে যে মোরে আর চাহে না! সুদূর কানন হইতে সে যে শুনেছে কাহার ডাক-- পাখিটি উড়িয়ে যাক॥ মুদিত নয়ন খুলিয়ে আমার সাধের স্বপন যায় রে যায়। হাসিতে অশ্রুতে গাঁথিয়া গাঁথিয়া দিয়েছিনু তার বাহুতে বাঁধিয়া আপনার মনে কাঁদিয়া কাঁদিয়া ছিঁড়িয়া ফেলেছে হায় রে হায়, সাধের স্বপন যায় রে যায়॥ যে যায় সে যায়, ফিরিয়ে না চায়, যে থাকে সে শুধু করে হায়-হায়-- নয়নের জল নয়নে শুকায়-- মরমে লুকায় আশা। বাঁধিতে পারে না আদরে সোহাগে-- রজনী পোহায়, ঘুম হতে জাগে, যায় যদি তবে যাক। একবার তবু ডাক্। কী জানি যদি রে প্রাণ কাঁদে তার তবে থাক্, তবে থাক্॥
ওগো ভাগ্যদেবী পিতামহী, মিটল আমার আশ-- এখন তবে আজ্ঞা করো, বিদায় হবে দাস। জীবনের এই বাসরবাতি পোহায় বুঝি, নেবে বাতি-- বধূর দেখা নাইকো, শুধু প্রচুর পরিহাস। এখন থেমে গেল বাঁশি, শুকিয়ে এল পুষ্পরাশি, উঠল তোমার অট্টহাসি কাঁপায়ে আকাশ। ছিলেন যাঁরা আমায় ঘিরে গেছেন যে যার ঘরে ফিরে, আছ বৃদ্ধা ঠাকুরানী মুখে টানি বাস॥