এবেলা ডাক পড়েছে কোন্খানে ফাগুনের ক্লান্ত ক্ষণের শেষ গানে। সেখানে স্তব্ধ বীণার তারে তারে সুরের খেলা ডুবসাঁতারে-- সেখানে চোখ মেলে যার পাই নে দেখা তাহারে মন জানে গো, মন জানে॥ এবেলা মন যেতে চায় কোন্খানে নিরালায় লুপ্ত পথের সন্ধানে। সেখানে মিলনদিনের ভোলা হাসি লুকিয়ে বাজায় করুণ বাঁশি, সেখানে যে কথাটি হয় না বলা সে কথা রয় কানে গো, রয় কানে॥
এ কি স্বপ্ন! এ কি মায়া! এ কি প্রমদা! এ কি প্রমদার ছায়া! আহা কে গো তুমি মলিন-বয়নে, আধ-নিমীলিত নলিন-নয়নে, যেন আপনারি হৃদয়-শয়নে আপনি রয়েছ লীন। তোমা তরে সবে রয়েছে চাহিয়া, তোমা লাগি পিক উঠিছে গাহিয়া, ভিখারি সমীর কানন বাহিয়া ফিরিতেছে সারা দিন। এ কি স্বপ্ন! এ কি মায়া! এ কি প্রমদা! এ কি প্রমদার ছায়া! যেন শরতের মেঘখানি ভেসে, চাঁদের সভাতে দাঁড়ায়েছ এসে, এখনি মিলাবে ম্লান হাসি হেসে, কাঁদিয়া পড়িবে ঝরি। জাগিছে পূর্ণিমা পূর্ণ নীলাম্বরে, কাননে চামেলি ফুটে থরে থরে, হাসিটি কখন ফুটিবে অধরে রয়েছি তিয়াষ ধরি। এ কি স্বপ্ন! এ কি মায়া! এ কি প্রমদা! এ কি প্রমদার ছায়া!