আরো একটু বসো তুমি, আরো একটু বলো। পথিক, কেন অথির হেন-- নয়ন ছলোছলো ॥ আমার কী যে শুনতে এলে তার কিছু কি আভাস পেলে-- নীরব কথা বুকে আমার করে টলোমলো ॥ যখন থাক দূরে আমার মনের গোপন বাণী বাজে গভীর সুরে। কাছে এলে তোমার আঁখি সকল কথা দেয় যে ঢাকি-- সে যে মৌন প্রাণের রাতে তারা জ্বলোজ্বলো ॥
আছে তোমার বিদ্যে-সাধ্যি জানা। রাজত্ব করা এ কি তামাশা পেয়েছ। জানিস না কেটা আমি। ঢের ঢের জানি-- ঢের ঢের জানি-- হাসিস নে হাসিস নে মিছে,যা যা-- সব আপন কাজে যা যা, যা আপন কাজে। খুব তোমার লম্বাচওড়া কথা! নিতান্ত দেখি তোমায় কৃতান্ত ডেকেছে!
হেথা যে গান গাইতে আসা আমার হয় নি সে গান গাওয়া-- আজো কেবলি সুর সাধা, আমার কেবল গাইতে চাওয়া। আমার লাগে নাই সে সুর, আমার বাঁধে নাই সে কথা, শুধু প্রাণেরই মাঝখানে আছে গানের ব্যাকুলতা। আজো ফোটে নাই সে ফুল, শুধু বহেছে এক হাওয়া। আমি দেখি নাই তার মুখ, আমি শুনি নাই তার বাণী, কেবল শুনি ক্ষণে ক্ষণে তাহার পায়ের ধ্বনিখানি। আমার দ্বারের সমুখ দিয়ে সে জন করে আসা-যাওয়া। শুধু আসন পাতা হল আমার সারাটি দিন ধ'র-- ঘরে হয় নি প্রদীপ জ্বালা, তারে ডাকব কেমন ক'রে। আছি পাবার আশা নিয়ে, তারে হয় নি আমারা পাওয়া।