ও কী কথা বল সখী, ছি ছি, ও কথা মনে এনো না।। আজি সুখের দিনে জগত হাসিছে, হেরো লো দশ দিশি হরষে ভাসিছে— আজি ও ম্লান মুখ প্রাণে যে সহে না। সুখের দিনে, সখী, কেন ও ভাবনা ।।
ওগো এত প্রেম-আশা, প্রাণের তিয়াষা কেমনে আছে সে পাশরি। তবে সেথা কি হাসে না চাঁদিনী যামিনী, সেথা কি বাজে না বাঁশরি॥ সখী, হেথা সমীরণ লুটে ফুলবন, সেথা কি পবন বহে না। সে যে তার কথা মোরে কহে অনুক্ষণ, মোর কথা তারে কহে না! যদি আমারে আজি সে ভুলিবে সজনী, আমারে ভুলালে কেন সে। ওগো এ চিরজীবন করিব রোদন, এই ছিল তার মানসে! যবে কুসুমশয়নে নয়নে নয়নে কেটেছিল সুখরাতি রে, তবে কে জানিত তার বিরহ আমার হবে জীবনের সাথি রে। যদি মনে নাহি রাখে, সুখে যদি থাকে, তোরা একবার দেখে আয়-- এই নয়নের তৃষা, পরানের আশা, চরণের তলে রেখে আয়। আর নিয়ে যা রাধার বিরহের ভার, কত আর ঢেকে রাখি বল্। আর পারিস যদি তো আনিস হরিয়ে এক-ফোঁটা তার আঁখিজল। না না, এত প্রেম, সখী, ভুলিতে যে পারে তারে আর কেহ সেধো না। আমি কথা নাহি কব, দুখ লয়ে রব, মনে মনে স'ব বেদনা। ওগো মিছে মিছে, সখী, মিছে এই প্রেম, মিছে পরানের বাসনা। ওগো সুখদিন হায় যবে চলে যায় আর ফিরে আর আসে না ॥
আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে। এ কৃপা কঠোর সঞ্চিত মোর জীবন ভ'রে ॥ না চাহিতে মোরে যা করেছ দান-- আকাশ আলোক তনু মন প্রাণ, দিনে দিনে তুমি নিতেছ আমায় সে মহা দানেরই যোগ্য ক'রে অতি-ইচ্ছার সঙ্কট হতে বাঁচায়ে মোরে ॥ আমি কখনো বা ভুলি কখনো বা চলি তোমার পথের লক্ষ্য ধরে; তুমি নিষ্ঠুর সম্মুখ হতে যাও যে সরে। এ যে তব দয়া, জানি জানি হায়, নিতে চাও ব'লে ফিরাও আমায়-- পূর্ণ করিয়া লবে এ জীবন তব মিলনেরই যোগ্য ক'রে আধা-ইচ্ছার সঙ্কট হতে বাঁচায়ে মোরে ॥