কূল থেকে মোর গানের তরী দিলেম খুলে, সাগর-মাঝে ভাসিয়ে দিলেম পালটি তুলে ॥ যেখানে ঐ কোকিল ডাকে ছায়াতলে সেখানে নয়, যেখানে ঐ গ্রামের বধূ আসে জলে সেখানে নয়, যেখানে নীল মরণলীলা উঠছে দুলে সেখানে মোর গানের তরী দিলেম খুলে ॥ এবার, বীণা, তোমায় আমায় আমরা একা-- অন্ধকারে নাইবা কারে গেল দেখা॥ কুঞ্জবনের শাখা হতে যে ফুল তোলে সে ফুল এ নয়, বাতায়নের লতা হতে যে ফুল দোলে সে ফুল এ নয়-- দিশাহারা আকাশ-ভরা সুরের ফুলে সেই দিকে মোর গানের তরী দিলেম খুলে ॥
সে কোন্ বনের হরিণ ছিল আমার মনে। কে তারে বাঁধল অকারণে॥ গতিরাগের সে ছিল গান, আলোছায়ার সে ছিল প্রাণ, আকাশকে সে চমকে দিত বনে মেঘলা দিনের আকুলতা বাজিয়ে যেত পায়ে তমাল ছায়ে-ছায়ে। ফাল্গুনে সে পিয়ালতলায় কে জানিত কোথায় পলায় দখিন-হাওয়ার চঞ্চলতার সনে॥