বাক্যের যে ছন্দোজাল শিখেছি গাঁথিতে সেই জালে ধরা পড়ে অধরা যা চেতনার সতর্কতা ছিল এড়াইয়া আগোচরে মনের গহনে। নামে বাঁধিবারে চাই, না মানে নামের পরিচয়। মূল্য তার থাকে যদি দিনে দিনে হয় তাহা জানা হাতে হাতে ফিরে। অকস্মাৎ পরিচয়ে বিস্ময় তাহার ভুলায় যদি বা, লোকালয়ে নাহি পায় স্থান, মনের সৈকততটে বিকীর্ণ সে রহে কিছুকাল, লালিত যা গোপনের প্রকাশ্যের অপমানে দিনে দিনে মিশায় বালুতে। পণ্যহাটে অচিহ্নিত পরিত্যক্ত রিক্ত এ জীর্ণতা যুগে যুগে কিছু কিছু দিয়ে গেছে অখ্যাতের দান সাহিত্যের ভাষা-মহাদ্বীপে প্রাণহীন প্রবালের মতো।
বৃষ্টি কোথায় নুকিয়ে বেড়ায় উড়ো মেঘের দল হয়ে, যেই দেখা দেয় আর-এক ধারায় শ্রাবণ-ধারার জল হয়ে। আমি ভাবি চুপটি করে মোর দশা হয় ঐ যদি! কেই বা জানে আমি আবার আর-একজনও হই যদি! একজনারেই তোমরা চেন আর-এক আমি কারোই না। কেমনতরো ভাবখানা তার মনে আনতে পারই না। হয়তো বা ঐ মেঘের মতোই নতুন নতুন রূপ ধরে কখন যে সে ডাক দিয়ে যায়, কখন থাকে চুপ করে। কখন বা সে পুবের কোণে আলো-নদীর বাঁধ বাঁধে, কখন বা সে আধেক রাতে চাঁদকে ধরার ফাঁদ ফাঁদে। শেষে তোমার ঘরের কথা মনেতে তার যেই আসে, আমার মতন হয়ে আবার তোমার কাছে সেই আসে। আমার ভিতর লুকিয়ে আছে দুই রকমের দুই খেলা, একটা সে ঐ আকাশ-ওড়া, আরেকটা এই ভুঁই-খেলা।