III. 12. samskirit bhasha padhi linha I HAVE learned the Sanskrit language, so let all men call me wise: But where is the use of this, when I am floating adrift, and parched with thirst, and burning with the heat of desire? To no purpose do you bear on your head this load of pride and vanity. Kabir says: 'Lay it down in the dust, and go forth to meet the Beloved. Address Him as your Lord.'
প্রাণ-ধারণের বোঝাখানা বাঁধা পিঠের 'পরে, আকাল পড়ল, দিন চলে না, চলল দেশান্তরে। দূর শহরে একটা কিছু যাবেই যাবে জুটে, এই আশাতেই লগ্ন দেখে ভোরবেলাতে উঠে দুর্গা ব'লে বুক বেঁধে সে চলল ভাগ্যজয়ে, মা ডাকে না পিছুর ডাকে অমঙ্গলের ভয়ে। স্ত্রী দাঁড়িয়ে দুয়ার ধরে দুচোখ শুধু মোছে, আজ সকালে জীবনটা তার কিছুতেই না রোচে। ছেলে গেছে জাম কুড়োতে দিঘির পাড়ে উঠি, মা তারে আজ ভুলে আছে তাই পেয়েছে ছুটি। স্ত্রী বলেছে বারে বারে, যে ক'রে হোক খেটে সংসারটা চালাবে সে, দিন যাবে তার কেটে। ঘর ছাইতে খড়ের আঁঠির জোগান দেবে সে যে, গোবর দিয়ে নিকিয়ে দেবে দেয়াল পাঁচিল মেঝে। মাঠের থেকে খড়কে কাঠি আনবে বেছে বেছে, ঝাঁটা বেঁধে কুমোরটুলির হাটে আসবে বেচে। ঢেঁকিতে ধান ভেনে দেবে বামুনদিদির ঘরে, খুদকুঁড়ো যা জুটবে তাতেই চলবে দুর্বছরে। দূর দেশেতে বসে বসে মিথ্যা অকারণে কোনোমতেই ভাব্না যেন না রয় স্বামীর মনে। সময় হল, ঐ তো এল খেয়াঘাটের মাঝি, দিন না যেতে রহিমগঞ্জে যেতেই হবে আজি। সেইখানেতে চৌকিদারি করে ওদের জ্ঞাতি, মহেশখুড়োর মেঝো জামাই, নিতাই দাসের নাতি। নতুন নতুন গাঁ পেরিয়ে অজানা এই পথে পৌঁছবে পাঁচদিনের পরে শহর কোনোমতে। সেইখানে কোন্ হালসিবাগান, ওদের গ্রামের কালো, শর্ষেতেলের দোকান সেথায় চালাচ্ছে খুব ভালো। গেলে সেথায় কালুর খবর সবাই বলে দেবে-- তারপরে সব সহজ হবে, কী হবে আর ভেবে। স্ত্রী বললে, "কালুদাকে খবরটা এই দিয়ো, ওদের গাঁয়ের বাদল পালের জাঠতুত ভাই প্রিয় বিয়ে করতে আসবে আমার ভাইঝি মল্লিকাকে উনত্রিশে বৈশাখে।"
এসেছি সুদূর কাল থেকে। তোমাদের কালে পৌঁছলেম যে সময়ে তখন আমার সঙ্গী নেই। ঘাটে ঘাটে কে কোথায় নেবে গেছে। ছোটো ছোটো চেনা সুখ যত, প্রাণের উপকরণ, দিনের রাতের মুষ্টিদান এসেছি নিঃশেষ করে বহুদূর পারে। এ জীবনে পা দিয়েছি প্রথম যে কালে সে কালের 'পরে অধিকার দৃঢ় হয়েছিল দিনে দিনে ভাবে ও ভাষায় কাজে ও ইঙ্গিতে, প্রণয়ের প্রাত্যহিক দেনাপাওনায়। হেসে খেলে কোনোমতে সকলের সঙ্গে বেঁচে থাকা, লোকযাত্রারথে কিছু কিছু গতিবেগ দেওয়া, শুধু উপস্থিত থেকে প্রাণের আসরে ভিড় জমা করা, এই তো যথেষ্ট ছিল। আজ তোমাদের কালে প্রবাসী অপরিচিত আমি। আমাদের ভাষার ইশারা নিয়েছে নূতন অর্থ তোমাদের মুখে। ঋতুর বদল হয়ে গেছে, -- বাতাসের উলটো-পালটা ঘ'টে প্রকৃতির হল বর্ণভেদ। ছোটো ছোটো বৈষম্যের দল দেয় ঠেলা, করে হাসাহাসি। রুচি আশা অভিলাষ যা মিশিয়ে জীবনের স্বাদ, তার হল রসবিপর্যয়। আমাদের সেকালকে যে সঙ্গ দিয়েছি যতই সামান্য হোক মূল্য তার তবু সেই সঙ্গসূত্রে গাঁথা হয়ে মানুষে মানুষে রচেছিল যুগের স্বরূপ, -- আমার সে সঙ্গ আজ মেলে না যে তোমাদের প্রত্যহের মাপে। কালের নৈবেদ্যে লাগে যে-সকল আধুনিক ফুল আমার বাগানে ফোটে না সে। তোমাদের যে বাসার কোণে থাকি তার খাজনার কড়ি হাতে নেই। তাই তো আমাকে দিতে হবে বড়ো কিছু দান দানের একান্ত দুঃসাহসে। উপস্থিত কালের যা দাবি মিটাবার জন্যে সে তো নয়, তাই যদি সেই দান তোমাদের রুচিতে না লাগে, তবে তার বিচার সে পরে হবে। তবু যা সম্বল আছে তাই দিয়ে একালের ঋণ শোধ করে অবশেষে ঋণী তারে রেখে যাই যেন। যা আমার লাভক্ষতি হতে বড়ো, যা আমার সুখদুঃখ হতে বেশি-- তাই যেন শেষ করে দিয়ে চলে যাই স্তুতি নিন্দা হিসাবের অপেক্ষা না রেখে।