দিলে তুমি সোনা-মোড়া ফাউণ্টেন পেন, কতমতো লেখার আসবাব। ছোটো ডেস্কোখানি। আখরোট কাঠ দিয়ে গড়া। ছাপ-মারা চিঠির কাগজ নানা বহরের। রুপোর কাগজ-কাটা এনামেল-করা। কাঁচি ছুরি গালা লাল-ফিতে। কাঁচের কাগজ-চাপা, লাল নীল সবুজ পেন্সিল। বলে গিয়েছিলে তুমি চিঠি লেখা চাই একদিন পরে পরে। লিখতে বসেছি চিঠি, সকালেই স্নান হয়ে গেছে। লিখি যে কী কথা নিয়ে কিছুতেই ভেবে পাই নে তো। একটি খবর আছে শুধু-- তুমি চলে গেছ। সে খবর তোমারো তো জানা। তবু মনে হয়, ভালো করে তুমি সে জান না। তাই ভাবি এ কথাটি জানাই তোমাকে-- তুমি চলে গেছ। যতবার লেখা শুরু করি ততবার ধরা পড়ে এ খবর সহজ তো নয়। আমি নই কবি-- ভাষার ভিতরে আমি কণ্ঠস্বর পারি নে তো দিতে; না থাকে চোখের চাওয়া। যত লিখি তত ছিঁড়ে ফেলি। দশটা তো বেজে গেল। তোমার ভাইপো বকু যাবে ইস্কুলে, যাই তারে খাইয়ে আসিগে। শেষবার এই লিখে যাই-- তুমি চলে গেছ। বাকি আর যতকিছু হিজিবিজি আঁকাজোকা ব্লটিঙের 'পরে।
এ কথা স্মরণে রাখা কেন গো কঠিন তুমি আছ সব চেয়ে, আছ নিশিদিন, আছ প্রতি ক্ষণে--আছ দূরে, আছ কাছে, যাহা-কিছু আছে, তুমি আছ ব'লে আছে। যেমনি প্রবেশ আমি করি লোকালয়ে, যখনি মানুষ আসে স্তুতিনিন্দা লয়ে-- লয়ে রাগ, লয়ে দ্বেষ, লয়ে গর্ব তার অমনি সংসার ধরে পর্বত-আকার আবরিয়া ঊর্ধ্বলোক; তরঙ্গিয়া উঠে লাভজয় লোভক্ষোভ; নরের মুকুটে যে হীরক জ্বলে তারি আলোক-ঝলকে অন্য আলো নাহি হেরি দ্যুলোকে ভূলোকে। মানুষ সম্মুখে এলে কেন সেই ক্ষণে তোমার সম্মুখে আছি নাহি পড়ে মনে?